কলকাতা: স্ট্রং রুম থেকে ইভিএম ‘চুরি’র শঙ্কা! এমনটাই আশঙ্কা করছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস৷ আর তা রুখতেই বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের বাইরে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই নেতা কুনাল ঘোষ ও শশী পাঁজা ধর্নায় বসেছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের লোকজন স্ট্রং রুমে দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছাড়াই ব্যালট বাক্স খুলছে।
তৃণমূলের অভিযোগ
কুনাল ঘোষ ও শশী পাঁজা বলেন, স্ট্রং রুমে ব্যালট বাক্স খোলার সময় সংশ্লিষ্ট দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকা আবশ্যক। কিন্তু তাদের অভিযোগ, বিজেপি ও ইসির কর্মকর্তারা এই নিয়ম না মেনে গোপনে ব্যালট বাক্স খুলছেন। তাঁরা এই ঘটনাকে “ভোট কারচুপির চেষ্টা” বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ধর্নায় বসে কুনাল ঘোষ বলেন, “আমরা স্ট্রং রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। বিজেপি ও ইসির লোকজন দলের এজেন্টদের উপস্থিতি ছাড়াই ব্যালট বাক্স খুলছে। এটা সম্পূর্ণ অনিয়ম।”
Read More: বাংলায় এক্সিট পোল করতে নারাজ অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া
নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে ভোট গণনার প্রস্তুতি চলছে। ৪ মে ফল ঘোষণা হবে। এই সময়ে তৃণমূল নেতাদের এই ধর্না নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তৃণমূল দাবি করছে যে তাদের প্রতিনিধিদের সামনে না রেখে ব্যালট বাক্স খোলা হচ্ছে, যা নির্বাচনী আইনের লঙ্ঘন।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা
নির্বাচন কমিশন এখনও এই অভিযোগের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে কমিশনের নির্দেশ অনুসারে, স্ট্রং রুমে ব্যালট বাক্স খোলার সময় সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। কমিশন স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশও দিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিজেপির দলের নেতারা আগে এ ধরনের অভিযোগকে “তৃণমূলের পরাজয়ের ভয়ে মিথ্যা অভিযোগ” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস এই ধর্নার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে স্ট্রং রুমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। কুনাল ঘোষ ও শশী পাঁজা বলেছেন, যতক্ষণ না তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ব্যালট বাক্স খোলা হয়, ততক্ষণ তারা ধর্না চালিয়ে যাবেন।
Read More: ডবল ইঞ্জিনের নারী নিরাপত্তার নমুনায় বন্ধ বিদেশিনী আগমন! দাবি পট্টনায়েকের
বর্তমান পরিস্থিতি
নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের সামনে তৃণমূল নেতাদের ধর্না চলছে। পুলিশ সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
৪ মে ফল ঘোষণার আগে এই ধরনের অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। নির্বাচন কমিশন কীভাবে এই অভিযোগের সমাধান করে, সেদিকে সবার নজর রয়েছে।




















