কলকাতা: কেএমসি নোটিশ নিয়ে নতুন বিতর্কে মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুনাল ঘোষ। (KMC Notice)তিনি জানিয়েছেন, বিজেপি একটি নোটিশ ফাঁস করেছে, যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে একাধিক সম্পত্তির কথা। এছাড়া অন্যান্য তৃণমূল নেতাদেরও এর সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তৃণমূলের স্পষ্ট অবস্থান এই নোটিশ সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।কুনাল ঘোষ বলেন, “আমরা একটি পোস্ট দেখতে পেয়েছি, যেখানে কেএমসির একটি নোটিশ দেখানো হয়েছে।
এটি বিজেপি অনানুষ্ঠানিকভাবে লিক করেছে। নোটিশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে একাধিক সম্পত্তির কথা। সঙ্গে অন্য নেতাদেরও জড়ানোর চেষ্টা চলছে। আমাদের দল বলছে, এই নোটিশ সম্পূর্ণ ভুয়ো।”এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) নাম ব্যবহার করে যে নোটিশটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে কয়েকটি প্রপার্টির ঠিকানা ও বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
আরও দেখুনঃ রাজ্যে লাগু হল CAA! ৭ শরণার্থী জনজাতি পাবে নাগরিকত্ব
বিজেপির একাংশ এটিকে তৃণমূলের ‘জমি দখল ও দুর্নীতির’ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তৃণমূল নেতারা একে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।কুনাল ঘোষ আরও জানান, এ ধরনের লিক করা নথি দিয়ে বিরোধীদের চরিত্র হননের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “যদি সত্যি কোনো অনিয়ম থাকে, তাহলে আইন অনুসারে তদন্ত হোক। কিন্তু ভুয়ো নথি ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা চলবে না।”
তৃণমূলের অন্দরে এই ঘটনাকে বিজেপির ‘হতাশার বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিজেপি শিবির অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, নোটিশটি সত্যি এবং সরকারি স্তর থেকেই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারের সম্পত্তির হিসাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন উঠছে। এখন যদি কেএমসির নথি সামনে আসে, তাহলে তদন্ত হওয়া উচিত।
সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কলকাতার এক বাসিন্দা বলেন, “রাজনীতির লড়াইয়ে এসব নথি লিক হওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু সত্যি-মিথ্যা যাচাই না করে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।” অন্যদিকে অনেকে বলছেন, যদি সত্যি কোনো অনিয়ম থাকে তাহলে প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের ঘটনা রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর বিরোধীদের মধ্যে চাপ সৃষ্টির একটি অংশ।
তৃণমূল এখন প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে, আর বিজেপি আক্রমণাত্মক ভূমিকায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় বিষয়টি দলের ভিতরেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।তৃণমূল সূত্রে জানানো হয়েছে, তারা কেএমসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে খোঁজ নেবে যে এই নোটিশ সত্যি কি না। যদি ভুয়ো প্রমাণিত হয়, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুনাল ঘোষ বলেছেন, “আমরা কোনো অনিয়মকে প্রশ্রয় দেব না, কিন্তু মিথ্যা অভিযোগও মেনে নেব না।”




















