শ্রীনগর: পিডিপি প্রধান ও সাবেক জম্মু-কাশ্মীর মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি (Mehbooba Mufti)আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে। তিনি বলেছেন, “এটাই বিজেপি দেশে যে ভাষা চালু করেছে প্রত্যেক মুসলিম এবং প্রত্যেক ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিকে দেশদ্রোহী বলে ডাকছে এবং তাদের পাকিস্তানে চলে যেতে বলছে, এখন তো ইরানেও।”
মেহবুবার এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বিজেপি নেতারা একে ‘দেশবিরোধী’ এবং ‘পাকিস্তানপন্থী’ মানসিকতার প্রকাশ বলে আক্রমণ করেছেন। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, মেহবুবা মুফতি একটি কথাও বলতে পারেন না যেখানে পাকিস্তানের উল্লেখ না থাকে। সম্প্রতি এক জনসভায় মেহবুবা বলেন, বিজেপি সরকারের আমলে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মুসলিম যুবকদের টার্গেট করে দেশদ্রোহী বলা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ নরেন্দ্রপুরে বিজেপি নেতাকে লক্ষ্য করে হামলা, সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে
“যারা ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি করেন, তাদেরও একইভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। এখন তো পাকিস্তানের পাশাপাশি ইরানের নামও উঠছে,” বলেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মেহবুবা মুফতির এ ধরনের মন্তব্য নতুন নয়। তিনি প্রায় প্রতিটি বক্তব্যে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত সরকারের সমালোচনা করেন এবং পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
এতে স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান কতটা শক্তিশালী হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক কাশ্মীরবাসী বলছেন, বাস্তবে উপত্যকায় শান্তি ফিরছে, পর্যটন বেড়েছে, উন্নয়ন প্রকল্প চলছে। কিন্তু কিছু নেতা এখনও পুরনো রাজনীতিতে আটকে আছেন।বিজেপির জম্মু-কাশ্মীর ইউনিটের এক নেতা বলেন, “মেহবুবা মুফতি যখনই কথা বলেন, পাকিস্তানের নাম আসবেই। এটাই তাঁর রাজনীতির মূল সুর। দেশের বিরুদ্ধে বিষ ছড়ানো ছাড়া তাঁর কাছে আর কোনো এজেন্ডা নেই।”
তিনি আরও বলেন, আর্টিকেল ৩৭০ বিলোপের পর কাশ্মীরের যুবকরা এখন শিক্ষা, চাকরি ও উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। কিন্তু কিছু পুরনো নেতা এই অগ্রগতি মেনে নিতে পারছেন না।মেহবুবার মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকে তাঁকে ‘পাকিস্তানের মুখপাত্র’ বলে কটাক্ষ করেছেন। একজন নেটিজেন লিখেছেন, “মেহবুবা যদি এতই ভালোবাসেন পাকিস্তানকে, তাহলে নিজেই চলে যান না কেন?” অন্যদিকে তাঁর সমর্থকরা বলছেন, তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকারের কথা তুলে ধরছেন।


















