কলকাতা: কলকাতা পুরসভার (KMC) বেআইনি নির্মাণের নোটিশ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। এরই মধ্যে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির তালিকায় সহ-মালিকের নাম ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল৷ পুরসভার তালিকায় অভিষেকের একটি ফ্ল্যাটের যৌথ মালিক হিসেবে জ্বলজ্বল করছে ‘সায়নী ঘোষ’-এর নাম। আর এই নাম ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য৷ এই সায়নী ঘোষ কি খোদ যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ? বিতর্ক যখন গগনচুম্বী, ঠিক তখনই এই নিয়ে নীরবতা ভেঙে সরাসরি আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন সাংসদ সায়নী। (Sayani Ghosh name in Abhishek Banerjee property)
সেভেন ট্যাঙ্ক রোডের সেই রহস্যময় ফ্ল্যাট
সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার একটি সম্পত্তির তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে (যদিও এই তালিকার সত্যতা যাচাই করেনি কলকতা 24×7)। সেই তালিকা অনুযায়ী, দক্ষিণ কলকাতার ১৯ডি সেভেন ট্যাঙ্ক রোড-এর একটি ফ্ল্যাটের যৌথ মালিকানায় রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জনৈক সায়নী ঘোষ। উল্লেখ্য, এই তালিকায় অভিষেকের মোট ৪৩টি সম্পত্তির উল্লেখ রয়েছে। এর আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও দাবি করেছিলেন, অভিষেকের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে ১৪টি, তাঁর বাবার নামে ৬টি এবং অভিষেকের নিজের নামে ৪টি সম্পত্তি রয়েছে। কিন্তু এই তালিকায় সায়নী ঘোষের নাম জুড়ে যাওয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
‘প্রমাণ ছাড়া বদনামের চেষ্টা, এই ঘোষ ভয় পায় না!’
যৌথ মালিকানার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন যাদবপুরের সাংসদ। সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া পোস্ট করে সায়নী স্পষ্ট বলেন, “আমি জানি না এই সায়নী ঘোষ কে। তবে কোনও প্রমাণ ছাড়াই আমাকে বদনাম করার নোংরা চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ঘোষকে ভয় দেখানো যাবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি বলতে পারছি না ইনি কে। কিন্তু নিশ্চিতভাবেই এটা সেই সায়নী ঘোষ নন, যিনি একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন এবং রাজনীতি থেকে আজ পর্যন্ত কোনও অপ্রত্যাশিত বা অনৈতিক লাভ করেননি। মানুষ আমাকে ভালোবেসে আশীর্বাদ করেছে, আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।”
হলফনামা দেখার চ্যালেঞ্জ ও আইনি হুঁশিয়ারি
বিরোধীদের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে যাদবপুরের ভোটারদের উদ্দেশে সাংসদ বলেন, নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া তাঁর নিজস্ব হলফনামা যে কেউ যাচাই করে দেখে নিতে পারেন। সেখানে এই সম্পত্তির কোনও উল্লেখ নেই। একই সঙ্গে সায়নী সাফ জানিয়েছেন, তাঁর নাম জড়িয়ে যারা এই ভুয়ো খবর বা ‘ফেক নিউজ’ ছড়ানোর চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি খুব শীঘ্রই কড়া আইনি ব্যবস্থা নিতে চলেছেন। পুরসভার নোটিশ বিতর্কের মাঝেই এই ‘নাম বিভ্রাট’ বা ‘যৌথ মালিকানা’র তত্ত্ব আগামী দিনে কোন মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




















