নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান পিপলস পার্টি (Pakistani Senator) ইউএসএ আয়োজিত “মার্কা এ হক” নামের এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের সেনেটর রানা মেহমুদ উল হাসানের বক্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ভারতবিরোধী বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতীয় মহল, প্রবাসী হিন্দু সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিতর্কের মূল কারণ, বক্তব্যে ভারতের বিরুদ্ধে কড়া ভাষা ব্যবহার, কাশ্মীর ইস্যুতে “সব ফ্রন্টে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার” আহ্বান এবং পাকিস্তানের সামরিক শক্তির প্রশংসা। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি পাকিস্তানের জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে ভবিষ্যৎ শক্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন এবং ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেন। বিশেষ করে “না বুঝলে ভারত মুছে যাবে” ধরনের বক্তব্যকে অনেকেই উসকানিমূলক ও আক্রমণাত্মক হিসেবে দেখছেন।
আরও দেখুনঃ ‘পাহাড়ে চালু হবে পঞ্চায়েত রাজ!’, উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে বড় ঘোষণা দিলীপের
অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান ভারতের “অহংকার ভেঙে দিয়েছে” এবং কূটনৈতিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই ইসলামাবাদ নাকি সফলতা অর্জন করেছে। এছাড়া কাশ্মীর ইস্যু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত “প্রতিটি ফ্রন্টে সংগ্রাম” চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি। সমালোচকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য প্রবাসী পাকিস্তানি কমিউনিটির মধ্যে চরম জাতীয়তাবাদী মনোভাব উসকে দিতে পারে এবং ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনাকে বিদেশের মাটিতেও ছড়িয়ে দিতে পারে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে একজন বিদেশি রাজনীতিক মার্কিন মাটিতে দাঁড়িয়ে এমন উস্কানিমূলক ভাষণ দিতে পারেন। তাদের দাবি, আমেরিকার উচিত এ ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশের ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং বিদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য যাচাই করা। কিছু সংগঠন আবার অভিযোগ করেছে, এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী সমাজে বিভাজন ও উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানপন্থী গোষ্ঠীগুলো বলছে, এটি ছিল একটি রাজনৈতিক ও আদর্শিক সমাবেশ যেখানে কাশ্মীর এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের মতে, বক্তব্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল। কাশ্মীর, সীমান্ত সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ এবং কূটনৈতিক উত্তেজনা দুই দেশের সম্পর্ককে বহুবার সংকটের মুখে ফেলেছে। কিন্তু সেই উত্তেজনা যখন আমেরিকার মত তৃতীয় দেশের মাটিতে প্রকাশ পায়, তখন তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও প্রবাসী রাজনীতির নতুন মাত্রা তৈরি করে।




















