কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে কর্মরত সেনাবাহিনীর এক কর্নেলকে ঘিরে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক ও সেনা মহলে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI (CBI) ৫০ লক্ষ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে কর্নেল হিমাংশু বালিকে গ্রেপ্তার করেছে। (CBI) তদন্তকারীদের দাবি, টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া, বিল পাস করানো এবং নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহের মতো একাধিক দুর্নীতির ঘটনায় যুক্ত ছিলেন তিনি।
সূত্রের খবর, (CBI) কর্নেল হিমাংশু বালি সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের Army Ordnance Corps (AOC)-এ কর্মরত ছিলেন। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সরঞ্জাম ও সরবরাহ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তিনি দুর্নীতির জাল বিস্তার করেছিলেন বলে অভিযোগ CBI-এর। তদন্তে উঠে এসেছে, কানপুরের একটি বেসরকারি সংস্থাকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল।
এই ঘটনায় কানপুরের ওই সংস্থার দুই কর্ণধার মায়াঙ্ক আগরওয়াল এবং তাঁর ছেলে অক্ষত আগরওয়ালের নামও জড়িয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের করেছে CBI। তদন্তকারীদের দাবি, চলতি বছরের মার্চ এবং এপ্রিল মাসে কর্নেল বালির সঙ্গে ওই সংস্থার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়। এরপর কলকাতার পার্কস্ট্রিট এলাকায় একটি বৈঠক হয়, যেখানে অক্ষত আগরওয়ালের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেন কর্নেল হিমাংশু বালি।
CBI (CBI) সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বৈঠকের পরেই সংস্থাটিকে বড় একটি টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অভিযোগ, ২৪ এপ্রিল সংস্থাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ টেন্ডার পায় এবং সেই টেন্ডার অনুমোদনের জন্যই ৫০ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের আরও দাবি, এই বিপুল পরিমাণ টাকা হাওয়ালা মারফত দিল্লিতে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। গোটা ঘটনার পিছনে একটি সুসংগঠিত দুর্নীতির চক্র কাজ করছিল বলেও সন্দেহ করছে CBI।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র টেন্ডার পাইয়ে দেওয়াই নয়, সেনাবাহিনীতে নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, নির্দিষ্ট সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে মানহীন জিনিস সরবরাহ করা হলেও তা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে সেনাবাহিনীর কাজের গুণমান এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ফোর্ট উইলিয়ামের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেনা (CBI) ঘাঁটিতে এই ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে কীভাবে এই ধরনের আর্থিক অনিয়ম সম্ভব হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। CBI ইতিমধ্যেই একাধিক নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং যোগাযোগের রেকর্ড খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে আরও কয়েকজন ব্যক্তি বা সংস্থার যোগ থাকতে পারে।




















