ডলার ছুঁল ৯৬.৯৬ টাকা! রেকর্ড ভেঙে সর্বকালীন নিচে ভারতীয় মুদ্রা

মুম্বই: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কালো মেঘ এবার সরাসরি গ্রাস করল ভারতীয় অর্থনীতিকে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির টানাপোড়েনে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দাপট যত বাড়ছে, ততই রক্তক্ষরণ হচ্ছে ভারতীয় মুদ্রার। বুধবার ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us

মুম্বই: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কালো মেঘ এবার সরাসরি গ্রাস করল ভারতীয় অর্থনীতিকে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির টানাপোড়েনে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দাপট যত বাড়ছে, ততই রক্তক্ষরণ হচ্ছে ভারতীয় মুদ্রার। বুধবার বাজার খোলার সাথে সাথেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে সর্বকালীন রেকর্ড তলানিতে গিয়ে ঠেকল ভারতীয় রুপি। এক ধাক্কায় ৩৩ পয়সা পড়ে গিয়ে ডলারের সাপেক্ষে রুপির দাম দাঁড়ায় ৯৬.৮৬ টাকা, যা বিগত সেশনে ছিল ৯৬.৫৩ টাকা। এর ফলে গত সপ্তাহের সর্বনিম্ন রেকর্ডও (৯৬.৬১৫০) আজ ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। (Indian Rupee Record Low)

পতনের গভীরতা আরও স্পষ্ট

দিনের শুরুতে ধাক্কা খাওয়ার পর বেলা বাড়ার সাথে সাথে রুপির পতন আরও গভীর রূপ ধারণ করে। এক সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে ডলারের তুলনায় ভারতীয় রুপির দর নেমে যায় ৯৬.৯৬-এ। বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, বর্তমান অর্থবর্ষে রুপির দাম ৯৭-এর মনস্তাত্ত্বিক গণ্ডি পার করে যাওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মাত্র এই কয়েক মাসে ভারতীয় মুদ্রার দর প্রায় ৬ শতাংশ কমে গিয়েছে।

   

কেন এই ঐতিহাসিক পতন? নেপথ্যে ৩টি বড় কারণ

১. ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া কার্যত থমকে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম চড়া স্তরেই আটকে রয়েছে। ভারত তার প্রয়োজনের সিংহভাগ তেল আমদানি করে, ফলে তেলের দাম বাড়ায় ভারতের আমদানি খরচ আকাশ ছুঁয়েছে।

২. তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির (Inflation) আশঙ্কায় মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার দীর্ঘ সময় চড়া রাখবে, এই ধারণাতেই মার্কিন ডলার এখন অতি-শক্তিশালী। ডলার ইনডেক্স একলাফে বেড়ে প্রায় ৯৯.৪-এ পৌঁছে গিয়েছে।

৩. মার্কিন ১০ বছরের বন্ড ইয়েল্ড একলাফে বেড়ে ৪.৫ শতাংশ এবং ৩০ বছরের বন্ড ইয়েল্ড ৫.১ শতাংশ পার করে গিয়েছে। এর ফলে ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলি থেকে বিদেশি লগ্নি বা মূলধন হুহু করে বাইরে চলে যাচ্ছে, যা দেশের ‘ব্যালান্স অফ পেমেন্টস’ (Balance of Payments)-এর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।

ত্রাতা সেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ‘রেকর্ড ডিভিডেন্ড’

এই চরম উদ্বেগের মধ্যেও ভারতীয় অর্থনীতির জন্য সামান্য আশার আলো দেখাচ্ছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। সরকারের রাজকোষীয় ঘাটতি মেটাতে আরবিআই-এর রেকর্ড প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকার ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কিছুটা স্বস্তি দেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বাজার থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার চাপ অনেকটাই কমাবে, যা বর্তমান টালমাটাল বাজারে নেতিবাচক মনোভাব রুখতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। তবে বিদেশি লগ্নিকারীদের পুঁজি প্রত্যাহার এবং রুপির এই ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ খাড়া করে দিল।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google