নয়াদিল্লি: ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে (India Oil Tankers)। এই পরিস্থিতিতে ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। ভারত পশ্চিম এশিয়া থেকে ক্রুড অয়েল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের ট্যাঙ্কার পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত শিপিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এসসিআই) পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অপারেশন পুনরায় শুরু করার আগে ভারতীয় নৌবাহিনীর ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়। ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির এক বড় অংশ এই পথেই আসে। ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত করা এবং কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর অনেক ট্যাঙ্কার আটকে পড়েছে। এতে ভারতের তেলের মজুত কমতে শুরু করেছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নৌবাহিনী এখন ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার জন্য ‘অপারেশন উর্জা সুরক্ষা’-র অধীনে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে।
আরও দেখুনঃ মেলোনিকে ‘মেলোডি’ চকলেট উপহার মোদী, রোমের ভাইরাল ভিডিওতে মজেছে নেটপাড়া
এসসিআই-এর চেয়ারম্যান সম্প্রতি জানিয়েছেন, তাঁদের দুটি এলপিজি ক্যারিয়ার (শিবালিক ও নন্দা দেবী) ইতিমধ্যে নিরাপদে হরমুজ পেরিয়ে এসেছে। কিন্তু পারস্য উপসাগরে এখনও বেশ কয়েকটি ভারতীয় জাহাজ আটকে আছে। নতুন করে তেলের ট্যাঙ্কার পাঠানোর জন্য নৌবাহিনীর ক্লিয়ারেন্স পেলেই অপারেশন শুরু হবে। একজন সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কোনোভাবেই জ্বালানি সংকট হতে দেব না।
বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি হরমুজ পথও নিরাপদ করার চেষ্টা চলছে।”ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। দৈনিক প্রায় ৫৫ লক্ষ ব্যারেল তেলের চাহিদার বড় অংশই পশ্চিম এশিয়া থেকে আসে। সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রণালীতে ট্রাফিক কমে গেছে। অনেক ট্যাঙ্কার সৌদি, ইরাক, কুয়েত থেকে তেল নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে।
এতে আন্তর্জাতিক তেলের দামও বেড়েছে। ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে চাপে পড়তে হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে “তেলের দাম আরও বাড়লে রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে পরিবহন খরচ সবই প্রভাবিত হবে,” বলছেন দিল্লির একটি ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির মালিক রামেশ্বর সিং।




















