কলকাতা: তীব্র গরম, অসহনীয় আর্দ্রতা আর পিচগলা রোদ। (Kolkata Police)এই পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান নিয়ন্ত্রণ করছেন কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের কর্মীরা। শহরবাসীর নিরাপত্তা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তাঁদের এই নিরলস পরিশ্রমকে সম্মান জানাতেই এবার বিশেষ উদ্যোগ নিল কলকাতা পুলিশ। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় কুমার নন্দ নিজে পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিংয়ে উপস্থিত হয়ে ট্রাফিক পুলিশ কর্মীদের হাতে তুলে দিলেন বিশেষ “সামার কিট”।
কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মাত্রা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। দুপুরের রোদে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাজ করা ট্রাফিক কর্মীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় তাঁদের শারীরিক সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়েই কলকাতা পুলিশের তরফে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামার কিটে রাখা হয়েছে ওআরএস, ঠান্ডা জলের বোতল, ছাতা এবং রোদচশমা। মূল উদ্দেশ্য, ডিউটির সময় যাতে পুলিশ কর্মীরা হিট স্ট্রোক বা ডিহাইড্রেশনের সমস্যায় না পড়েন।
আরও দেখুনঃ ‘বুলডোজার নীতি বরদাস্ত নয়!’, বিধানসভা চত্বরে অবস্থান বিক্ষোভে তৃণমূল বিধায়করা
পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং শহরের অন্যতম ব্যস্ত ট্রাফিক জংশন। সারাদিন হাজার হাজার গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও এখানকার ট্রাফিক কর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে হয় নিরবচ্ছিন্নভাবে। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে কমিশনার অজয় নন্দ নিজে কর্মীদের হাতে সামগ্রী তুলে দেওয়ায় পুলিশ মহলেও ইতিবাচক বার্তা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু পার্ক সার্কাস নয়, শহরের বিভিন্ন ট্রাফিক গার্ড এলাকাতেও ধাপে ধাপে এই ধরনের সামার সাপোর্ট ব্যবস্থা চালু করা হবে। কারণ গরমে দীর্ঘক্ষণ ডিউটি করার ফলে অনেক সময় মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, শরীরে জলের ঘাটতি বা রক্তচাপজনিত সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে কালো ইউনিফর্ম পরে ব্যস্ত মোড়ে দাঁড়িয়ে কাজ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। সেই কারণেই কর্মীদের সুরক্ষাকে এবার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কলকাতা পুলিশ প্রশাসন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক ট্রাফিক পুলিশ কর্মী জানান, সাধারণত মানুষ তাঁদের কাজ দেখলেও তাঁদের শারীরিক কষ্ট অনেক সময় চোখে পড়ে না। প্রচণ্ড রোদে দাঁড়িয়ে ডিউটি করতে গিয়ে অনেক সময় খাবার বা বিশ্রামের সুযোগও পাওয়া যায় না। এই ধরনের উদ্যোগ তাঁদের মনোবল বাড়াবে এবং কাজের উৎসাহও দেবে বলে তাঁরা মনে করছেন।
শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও যে পুলিশ প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই বার্তাই তুলে ধরতে চেয়েছে কলকাতা পুলিশ। শহরের মানুষ যখন গরম থেকে বাঁচতে ঘরের ভিতরে আশ্রয় নিচ্ছেন, তখন ট্রাফিক পুলিশ কর্মীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে নাগরিক পরিষেবা সচল রাখছেন। তাঁদের সেই পরিশ্রম এবং দায়িত্ববোধকে সম্মান জানিয়ে কলকাতা পুলিশের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে।


















