তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ‘শান্তিনিকেতন’ নামে পরিচিত হারিশ মুখার্জি রোডের বাড়িকে ঘিরে ফের তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বাড়িটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আগেই কলকাতা পুরনিগমের অ্যাসেসমেন্ট বিভাগ নোটিস জারি করেছিল। সেই নোটিস নিয়েই শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক চাপানউতোর। কিন্তু পরিস্থিতি আরও জটিল হয় দ্বিতীয় দফার নোটিস ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর।
বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতা পুরনিগমের তরফে ফের একটি নোটিস সাঁটানো হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির দেওয়ালে। পুরনিগমের দু’জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার গিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নোটিসটি লাগান বলে জানা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নোটিস সাঁটানোর সময় কোনও বাধা হয়নি। কিন্তু চাঞ্চল্য ছড়ায় ঠিক তার পরেই। অভিযোগ, মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই অর্থাৎ ৫টা ১১ মিনিট নাগাদ বাড়ি থেকে এক বাউন্সার বেরিয়ে এসে নোটিসটি ছিঁড়ে ফেলেন। ফলে দেওয়ালে শুধু আঠার দাগ রয়ে যায়, নোটিসটি আর সেখানে দেখা যায়নি।
এই ঘটনার ফলে প্রশাসনিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র আলোড়ন। পুরনিগমের নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি নোটিস এভাবে ছিঁড়ে ফেলা বা নষ্ট করা গুরুতর আইন লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হয়। একবার নয়, পরপর দু’বার একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও প্রথম দফার নোটিস একইভাবে নষ্ট করা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনিক নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে পুরনিগম এবার কী পদক্ষেপ নেবে।
পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্পত্তি সংক্রান্ত নোটিস জারি হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে মানতে হয় এবং কোনওভাবেই সেটিকে নষ্ট করা আইনত অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে পুরনিগমের তরফে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজনে অভিযোগ দায়ের করে আইনি পথে যাওয়ার কথাও ভাবা হতে পারে।
এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হয়েছে। বিরোধী শিবির থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল বিষয়টিকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় মন্তব্য করেছেন, “প্রয়োজনে অভিযোগ দায়ের করতে হবে। আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।” অন্যদিকে প্রাক্তন মেয়র তথা আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, পুরসভার নিয়ম অনুযায়ী নোটিস জারি হলে তা মানতে হয়, না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, গরিব মানুষের বাড়ি ভাঙার ক্ষেত্রে যে ধরনের কঠোরতা দেখা যায়, সেই একই নিয়ম কি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ হবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এদিকে শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি নয়, অভিযোগ উঠেছে তাঁর মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট রোডের বাড়িতেও নোটিস দেওয়া হয়েছিল, সেটিও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। ফলে একাধিক জায়গায় একই ধরনের ঘটনা ঘিরে প্রশাসনিক চাপ আরও বেড়েছে।
পুরনিগম এখন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, কর্মীদের রিপোর্ট এবং স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হতে পারে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজন হলে অভিযোগ দায়ের থেকে শুরু করে আরও কড়া পদক্ষেপ—সব বিকল্পই খোলা রাখা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।




















