নিজের গড়েই ধাক্কা! এবার ডায়মন্ডহারবারে অভিষেকের বিরুদ্ধে FIR

ডায়মন্ডহারবার: বিধায়কদের সই জালিয়াতি কাণ্ডে সিআইডি-র  তলব এড়ানোর মাঝেই আরও বড় আইনি বিপাকে জড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার নিজের লোকসভা কেন্দ্র ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
FIR Filed Against Abhishek Banerjee In Diamond Harbour

ডায়মন্ডহারবার: বিধায়কদের সই জালিয়াতি কাণ্ডে সিআইডি-র  তলব এড়ানোর মাঝেই আরও বড় আইনি বিপাকে জড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার নিজের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারেই তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হল এফআইআর (FIR)। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান-সহ ৪১ জন নামী নেতা-কর্মী এবং আরও প্রায় দেড়শো জন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার হেভিওয়েট বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি।

বিজেপি নেতার স্পষ্ট দাবি, সাড়ে সাত বছর আগে খোদ অভিষেকের নির্দেশেই তাঁর ওপর এক মারাত্মক প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। রাজ্যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবার পুলিশ এই বিষয়ে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ করবে বলে তিনি আশাবাদী।

   

সাড়ে ৭ বছর আগে কী ঘটেছিল কপাটহাটে?

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বর। তৎকালীন বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ দাস ডায়মন্ড হারবারের কপাটহাট মোড়ে একটি দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসেছিলেন। অভিযোগ, সেখানেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর ওপর অতর্কিতে রড, লাঠি নিয়ে চড়াও হয়। মারের চোটে তাঁর কোমর থেকে পা পর্যন্ত গুরুতর জখম হয়, এমনকি পিটিয়ে তাঁর শিরদাঁড়াতেও চিড় ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মাথায় গভীর আঘাত-সহ কার্যত তাঁকে পরিকল্পনা করে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

এই ঘটনার পর কলকাতার সিএমআরআই (CMRI) হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন অভিজিৎবাবু এবং তাঁর শরীরে বড়সড় অস্ত্রোপচারও করতে হয়েছিল। বিজেপি নেতার অভিযোগ, সে সময় পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও তৎকালীন শাসক দলের রাজনৈতিক প্রভাবে পুলিশ কোনও সুরাহা বা পদক্ষেপ নেয়নি।

‘ডায়মন্ড হারবার পুলিশ তখন অভিষেকের নিয়ন্ত্রণে ছিল’

এতদিন পর কেন ফের পুলিশের দ্বারস্থ হলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে অভিষেকের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ দাস বলেন, “হামলার ৪৪ মিনিট আগেই আমি খবর পেয়েছিলাম যে আমার ওপর আক্রমণ হতে পারে। আমি পুলিশকে জানিয়েও কোনও লাভ পাইনি। আমি চাইলে পালিয়ে যেতে পারতাম, কিন্তু আমি পলাতক নই। তখন জেলা সভাপতি হিসেবে আমি পালিয়ে গেলে এখানে সংগঠনটা শেষ হয়ে যেত, ওরা সেটাই চেয়েছিল। আমাকে তো আধমরা করে ফেলে রেখেছিল ওরা, আমার মেরুদণ্ডে এখনও চিড় রয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “তখন তো ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সম্পূর্ণভাবে অভিষেকের নিয়ন্ত্রণে ছিল, তাই তারা কোনও অ্যাকশন নেয়নি। কিন্তু যারা আমার ওপর হামলা চালিয়েছিল, তারা এবার আর ছাড় পাবে না। এদের সবার গ্রেফতার হওয়া উচিত।”

উল্লেখ্য, এই এফআইআর-এ নাম থাকা অভিষেকের ‘ডানহাত’ বলে পরিচিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে অন্য একটি মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এবার খোদ বিদায়ী সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাকি তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google