ইসলামাবাদ: পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একটি চিনা জেএফ-১৭ থান্ডার ফাইটার জেট রুটিন ট্রেনিং মিশন চলাকালীন বিধ্বস্ত হয়েছে (JF-17 Fighter Jet Crash)। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স (পিএসি) কামরার কাছে। এটি ২০১১ সালের পর পাকিস্তানে জেএফ-১৭ জেটের সপ্তম বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল পাকিস্তান বিমান বাহিনী এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আইএসপিআর (ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস) সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্র অনুসারে, জেটটি হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে নেমে আসে। পাইলট সময়মতো ইজেক্ট করে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন বলে প্রাথমিক খবরে জানা গেছে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে টেকনিক্যাল ত্রুটি, ইঞ্জিন সমস্যা অথবা উড়ানের সময় কোনো যান্ত্রিক গোলযোগকে দায়ী করছেন।
আরও দেখুনঃপুরকর্মীদের সামনে নোটিস ছিঁড়ে বাউন্সারের দাদাগিরি! অভিষেকের বাড়িতে চাঞ্চল্য
জেএফ-১৭ থান্ডারচিন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হালকা ওজনের মাল্টিরোল ফাইটার জেট। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর মূল শক্তির একটি অংশ এই জেট। কিন্তু দুর্ঘটনার ইতিহাস বেশ উদ্বেগজনক। ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত সাতটি বড় দুর্ঘটনায় একাধিক জেট হারিয়েছে পাকিস্তান। কয়েকটি ঘটনায় পাইলটের মৃত্যুও হয়েছে। এতে জেটটির নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জেএফ-১৭-এর বারবার দুর্ঘটনা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই জেটটিকে পাকিস্তান তার এফ-১৬-এর পরিপূরক হিসেবে দেখে। কিন্তু বারবার টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দিলে পাইলটদের মনোবল এবং বাহিনীর সামগ্রিক প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়তে বাধ্য। একজন অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি বিমান কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “একই ধরনের জেট বারবার বিধ্বস্ত হলে শুধু খরচই বাড়ে না, পাইলটদের আস্থাও নষ্ট হয়।”
এই দুর্ঘটনার পর পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের নীরবতা অনেককে অবাক করেছে। সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় আইএসপিআর দ্রুত বিবৃতি দিয়ে পাইলটের অবস্থা এবং তদন্তের কথা জানায়। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ চুপচাপ। এই নীরবতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনা চলছে। অনেকে বলছেন, হয়তো দুর্ঘটনার কারণ এতটাই স্পর্শকাতর যে প্রকাশ করতে চাইছে না কর্তৃপক্ষ।
চিন-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অন্যতম প্রতীক জেএফ-১৭। চিনের চেংদু এয়ারক্রাফট কর্পোরেশন এবং পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স যৌথভাবে এটি তৈরি করে। পাকিস্তান এখন জেএফ-১৭-এর বিভিন্ন ব্লক (ব্লক-১, ব্লক-২ এবং ব্লক-৩) ব্যবহার করছে। কিন্তু নিরাপত্তা রেকর্ড ভালো না হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয় রয়েছে।




















