বিট্টু দত্ত, কলকাতা: ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে হওয়া এই প্রতিযোগিতায় ভারত শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হলেও, টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচে সম্ভাব্য গড়াপেটার অভিযোগ সামনে আসায় ক্রিকেটমহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের দুর্নীতি দমন শাখা একটি নির্দিষ্ট ম্যাচের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে কানাডা ও নিউ জিল্যান্ডের মধ্যেকার গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচ। বিশেষ করে নিউ জিল্যান্ডের ইনিংসের পঞ্চম ওভারটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। সেই ওভারে কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়া বল করতে এসে একাধিক ভুল করেন। তিনি একটি নো-বল দেন, লেগ সাইডে ওয়াইড করেন এবং ওভারটিতে মোট ১৫ রান খরচ হয়। ওই ওভারের আগে কানাডার দুই পেসার জসকরণ সিং এবং দিলন হেলিগারও বেশ খরুচে বোলিং করেছিলেন। তবে দলের স্পিনার সাদ বিন জাফর বিপরীত ছবি তুলে ধরেন। তিনি নিজের ওভারে কোনও রান না দিয়ে একটি উইকেট তুলে নেন। ফলে একই ম্যাচে বোলিংয়ের এমন বৈপরীত্য তদন্তকারীদের নজর কাড়ে।
এই গোটা বিতর্ক নতুন করে সামনে আসে কানাডিয়ান সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসির একটি অনুসন্ধানী ডকুমেন্টারির মাধ্যমে। ‘কোরাপশন, ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিকেট’ নামে সেই অনুষ্ঠানে কানাডা ক্রিকেটের অন্দরের একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সেখানে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, দল নির্বাচনে প্রভাব খাটানো, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা এবং কিছু ম্যাচে সন্দেহজনক ঘটনার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। ডকুমেন্টারিতে আরও একটি পুরনো ফোনালাপের উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তৎকালীন কোচ খুররম চৌহান দাবি করেন, বোর্ডের কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য কিছু নির্দিষ্ট ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার জন্য তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। এই অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা হয়নি এবং তদন্ত প্রাথমিক স্তরেই রয়েছে।
আইসিসির দুর্নীতি দমন শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি কিছু না বললেও তারা জানিয়েছে, সম্প্রচারিত তথ্য সম্পর্কে তারা অবগত এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত এক বছর ধরেই কানাডা ক্রিকেট নানা সমস্যায় জর্জরিত।
বোর্ডের নেতৃত্বে অস্থিরতা, প্রাক্তন কর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, ক্রিকেটারদের বেতন ও পুরস্কারের অর্থ দিতে বিলম্ব, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আগেই উত্তপ্ত ছিল। তার মধ্যেই বিশ্বকাপের ম্যাচে গড়াপেটার সম্ভাব্য অভিযোগ কানাডা ক্রিকেটের ভাবমূর্তিতে আরও বড় ধাক্কা দিল।এখন সকলের নজর তদন্তের ফলাফলের দিকে। অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে তা শুধু কানাডা ক্রিকেট নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বচ্ছতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দেবে।




















