
নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে এবার বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার (Demographic Change)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন, “ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ” বা জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে দেশের বিভিন্ন অংশে যে জনসংখ্যার ভারসাম্যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তা ভারতের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় অমিত শাহ জানান, গত ১৫ আগস্ট ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিশেষ কমিটি গঠনের ঘোষণা করেছিলেন। সেই ঘোষণার ভিত্তিতেই এবার আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি তৈরি করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে রয়েছেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার দুর্গাশঙ্কর মিশ্র, প্রাক্তন আইপিএস অফিসার বালাজি শ্রীবাস্তব এবং অর্থনীতিবিদ ডঃ শমিকা রবি। এছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জয়েন্ট সেক্রেটারি (Foreigners-I) এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
আরও দেখুনঃ উঠে গেল রক্ষাকবচ! জাহাঙ্গীরের গ্রেফতারি এখন সময়ের অপেক্ষা
অমিত শাহ তাঁর বার্তায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ‘ডেমোগ্রাফি চেঞ্জ’ শুধুমাত্র জনসংখ্যার বিষয় নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা এবং দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে স্থানীয় জনসংখ্যার গঠনে পরিবর্তন এবং তার সামাজিক প্রভাব নিয়ে কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, এই কমিটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে অস্বাভাবিক জনসংখ্যা পরিবর্তনের ধরণ বিশ্লেষণ করবে। পাশাপাশি কোথায় কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে এবং তার পেছনে কী কারণ রয়েছে, সেই বিষয়েও বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হবে। কমিটির কাজ হবে একটি সময়বদ্ধ এবং পরিকল্পিত সমাধানপত্র তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের সমস্যার মোকাবিলা করা যায়।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘোষণা ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা। বিজেপির বক্তব্য, দেশের নিরাপত্তা এবং সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের দাবি, বহু বছর ধরে কিছু সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে জনসংখ্যার গঠনে পরিবর্তন এসেছে, যা প্রশাসনিক এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশের অভিযোগ, “ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ” ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গেলে নিরপেক্ষ তথ্য ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এগোনো প্রয়োজন। পাশাপাশি দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামোকে অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই কমিটি ভবিষ্যতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং জনসংখ্যা নীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ প্রথমবার কেন্দ্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে “অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন” বিষয়টিকে জাতীয় পর্যায়ে বিশ্লেষণের জন্য একটি বিশেষ কমিটির হাতে তুলে দিল।







