
কলকাতা: জাহাঙ্গীর খান, রাজ্য রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়ে নাম। (Jahangir Khan)দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক সময়কার দোর্দন্ড প্রতাপ তৃণমূল নেতা এখন জেলযাত্রার দোরগোড়ায়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজেকে ফলতার পুষ্পা বলেছিলেন তিনি। ফলতার পুনর্নির্বাচনে লজ্জাজনক হারের পর অভিষেক ঘনিষ্ট এই তৃণমূল নেতার উপর থেকে এবার উঠে গেল আদালতের রক্ষা কবচ। এবার তার গ্রেফতারি শুধু সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
গুন্ডাগিরি হোক বা তোলাবাজি জাহাঙ্গীর ফলতার উল্লেখযোগ্য নাম। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফলতার মানুষকে হুমকি দেওয়া থেকে শুরু করে ইভিএমে টেপ সেটে ভোট করানোর জন্য বাতিল হয় ফলতার নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে পুনর্নির্বাচনের। অবশ্য নির্বাচনের দুদিন আগেই নিজের নাম প্রত্যাহার করেছিল দাগি জাহাঙ্গীর। তাতেও কলঙ্ক ঘোচেনি বরং ৪ নম্বরে নেমে হারের মুখ দেখতে হয় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীরকে।
আরও দেখুনঃ প্রশান্ত বর্মন ইস্যুতে বিতর্ক, পুলিশের বিরুদ্ধে সরব রাজ্যের মন্ত্রী
এবার এই জাহাঙ্গীরের শিয়রে সমন। আজ ২৬ মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের বিচারপতি পার্থসারথি সেন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীরের অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকার করেছেন। ফলে তাঁর গ্রেফতারির সম্ভাবনা এখন প্রবল। মূলত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যাতে তিনি অংশ নিতে পারেন, সেই কারণেই এই স্বস্তি দেওয়া হয়েছিল। ২৪ মে পুনর্নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ায় সেই সুরক্ষার যৌক্তিকতা শেষ হয়েছে বলে আদালত জানায়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা থানায় তৃণমূলের এই নেতার বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতি, বুথ দখল ও ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ৭টি ফৌজদারি মামলা (FIR) নথিভুক্ত রয়েছে।বিচারপতি পার্থসারথি সেন জাহাঙ্গীরের আবেদন খারিজ করে স্পষ্ট জানান যে, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে কোনও অভিযুক্তকে অনির্দিষ্টকালের জন্য গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষাকবচ দেওয়া আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র কোটরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। নানা মুনি দিচ্ছেন নানামত অনেকেই বলছেন শুভেন্দু অধিকারী যখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন তখনই জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এখন সেটাই বাস্তবায়িত হচ্ছে। আবার অনেকেই এই ঘটনাকে ‘সবকা সাথ সবকা হিসাব’ বলেও উল্লেখ করেছেন।













