প্রশান্ত বর্মন ইস্যুতে বিতর্ক, পুলিশের বিরুদ্ধে সরব রাজ্যের মন্ত্রী

রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের গ্রেপ্তারিকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইকো পার্ক থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে…

dilip-ghosh-mothabari-controversy-mamata-link-bengal-politics-2026

রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের গ্রেপ্তারিকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইকো পার্ক থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এই ঘটনায় সরব হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) । মঙ্গলবার তিনি প্রকাশ্যে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, পুলিশের কাজ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্রমেই আস্থা কমছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ অনেক সময় নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হলেও, আবার একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকে। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, “পুলিশ তো কাউকেই খুঁজে পায় না। অথচ সন্ধ্যাবেলা তাদের সঙ্গেই বসে খায়। তারপর বলে খুঁজে পাচ্ছি না।” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।

   

তিনি আরও(Dilip Ghosh) দাবি করেন, এই ধরনের পরিস্থিতি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে। মেদিনীপুরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। তাঁর মতে, পুলিশের এই আচরণ পরিবর্তন না হলে ভবিষ্যতে জনসাধারণের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়বে। এমনকি তিনি সতর্ক করে বলেন, “পুলিশ এই অভ্যাস না বদলালে পাবলিক পাল্টে দেবে।”

রাজ্যের পঞ্চায়েত-গ্রামোন্নয়ন ও প্রাণী সম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এ দিন আরও অভিযোগ করেন যে, পুলিশের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কথায়, “পুলিশের অনেক দিন ধরেই বদভ্যাস রয়েছে মিথ্যা বলার। একাধিক নেতাদের সঙ্গে গা ঘষে চলা। চোর ডাকাতদের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করা। এইগুলো বদলানো দরকার।”

তিনি আরও বলেন, পুলিশের কিছু আধিকারিককে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে তাদের পেশাগত নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর দাবি, ওসি, আইসি থেকে শুরু করে বিডিও ও এসডিও—অনেক ক্ষেত্রেই এই প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ন্যায্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

দিলীপ ঘোষ বলেন, “এদেরকে ব্যবহার করা হয়েছে খারাপ কাজে। পুলিশও ধীরে ধীরে ওটাকেই স্বাভাবিক বলে মনে করেছে। যার ফলে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে প্রশাসনিক কাঠামোর উপর মানুষের আস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে।

গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে সরাসরি মন্তব্য না করলেও, পুলিশের সামগ্রিক কাজকর্ম নিয়েই তাঁর বক্তব্য ছিল অত্যন্ত কড়া। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভিতরে থাকা কিছু অসঙ্গতি এবং অপব্যবহারই আজকের পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তাঁর মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।