অক্ষত রাখা সম্ভব নয়, ভেঙে ফেলা হতে পারে লেকটাউনের মেসি মূর্তি

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও কাঠামোগত সমস্যার কারণে লেকটাউনের বিশাল মেসি (Lionel Messi) মূর্তি ভেঙে ফেলার ভাবনা প্রশাসনের। এলাকায় বাড়ছে উদ্বেগ।

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
lake-town-messi-statue-demolition-safety-concern

কলকাতা: লেকটাউনে তৈরি হওয়া লিওনেল মেসির (Lionel Messi) বিশাল মূর্তিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মূর্তিটি নিরাপদে নামানো এখন অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার ও বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, অক্ষত অবস্থায় এত বড় কাঠামো সরানো প্রায় অসম্ভব। বরং সেটি নামানোর চেষ্টা করতে গেলে আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই এখন মূর্তিটি ভেঙে ফেলার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বাংলার কোচ ফের লক্ষ্মীরতন, সফলতা সত্ত্বেও ব্রাত্য সৌরাশিস লাহিড়ী

লেকটাউনের ব্যস্ত রাস্তার ধারে তৈরি হয়েছিল এই বিশাল মেসি মূর্তি। ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলারের জনপ্রিয়তাকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ভার্চুয়াল মাধ্যমে স্বয়ং মেসি এই মূর্তির উদ্বোধন করেছিলেন। সেই সময় ঘটনাটি ব্যাপক প্রচারও পায়। স্থানীয় মানুষ ও ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও এটি ছিল বড় আকর্ষণের কেন্দ্র। মূর্তিটি তৈরির পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। শিল্পী মন্টি পালের নেতৃত্বে দীর্ঘ পরিকল্পনার মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছিল।

   

আরও পড়ুন: ইউনিটি কাপের অভিযান শুরু করার আগে কী বললেন খালিদ?

কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যেই মূর্তিটিকে ঘিরে সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করতে থাকেন, প্রবল হাওয়া বা ঝড়ের সময় মূর্তিটি দুলতে দেখা যাচ্ছে। এত বড় কাঠামো এভাবে নড়াচড়া করায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। অনেকের আশঙ্কা ছিল, যদি কোনও দিন হঠাৎ মূর্তির কোনও অংশ ভেঙে পড়ে, তাহলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ মূর্তিটির খুব কাছেই রয়েছে ব্যস্ত রাস্তা, উড়ালপুল এবং একটি ক্লক টাওয়ার। ফলে মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

আরও পড়ুন: আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও গ্রেফতার হয়নি পরেশ পাল! হাইকোর্টে অভিজিতের দাদা বিশ্বজিৎ

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। সোমবার পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি আধিকারিক এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মূর্তিটি পরীক্ষা করেন। পরদিন আবার দ্বিতীয় দফায় পরিদর্শনে যান বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন এক স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপকও। তাঁরা মূর্তির ভিত, কাঠামো এবং ভারসাম্য খতিয়ে দেখেন। প্রথমে পরিকল্পনা ছিল, বড় ক্রেন এনে পুরো মূর্তিটিকে অক্ষত অবস্থায় নামানো হবে। কিন্তু পরে বিশেষজ্ঞরা জানান, সেই কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মূর্তিটি নামানোর সময় সেটি ভেঙে পড়ে আশপাশে ক্ষতি করতে পারে। এমনকী উড়ালপুল বা ক্লক টাওয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও বিপদের মুখে পড়তে পারে।

এই কারণেই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ পথ হিসেবে মূর্তিটি ভেঙে ফেলার বিকল্পটি গুরুত্ব পাচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররাই শেষ পর্যন্ত কীভাবে পরিস্থিতি সামলানো হবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে গোটা ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একসময় যেটি ফুটবলপ্রেমীদের আবেগের প্রতীক ছিল, সেই মূর্তিই এখন নিরাপত্তা ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google