তাইপে: বিশ্ব অর্থনীতিতে এক অপ্রত্যাশিত মাইলফলক অর্জন করেছে তাইওয়ান। (Taiwan)দিল্লির চেয়েও ছোট জনসংখ্যার এই দ্বীপরাষ্ট্র ভারতকে ছাড়িয়ে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম স্টক মার্কেটে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, তাইওয়ানের মোট স্টক মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন দাঁড়িয়েছে ৪.৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে ভারতের বাজার মূল্য ৪.৯২ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
এই খবরটি বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাত্র ২.৩ কোটি জনসংখ্যার তাইওয়ান (দিল্লির জনসংখ্যা প্রায় ২.২ কোটি, তবে জাতীয় রাজধানী অঞ্চল মিলিয়ে আরও বেশি) এত ছোট দেশ হয়েও কীভাবে বিশাল জনসংখ্যা ও অর্থনীতির ভারতকে পেছনে ফেলল এই প্রশ্ন এখন সবার মনে।তাইওয়ানের এই সাফল্যের মূল কারণ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর শিল্প।
আরও দেখুনঃ অক্ষত রাখা সম্ভব নয়, ভেঙে ফেলা হতে পারে লেকটাউনের মেসি মূর্তি
বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিপ প্রস্তুতকারক কোম্পানি টিএসএমসি (TSMC)-এর আধিপত্য তাইওয়ানের বাজারকে চাঙ্গা রেখেছে। এআই (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স), স্মার্টফোন, অটোমোবাইল এবং সামরিক খাতে চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে টিএসএমসি-সহ অন্যান্য তাইওয়ানি টেক কোম্পানির শেয়ারের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাইওয়ানের অর্থনীতি মূলত উচ্চ প্রযুক্তি ও রফতানি নির্ভর, যা তাদের বাজারকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে গেছে।
অন্যদিকে ভারতের স্টক মার্কেট গত কয়েক বছরে অসাধারণ প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভারত বিশ্বের ৪র্থ বৃহত্তম স্টক মার্কেট ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ কিছুটা কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতি, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং লাভের অনুপাতে মূল্যায়নের চাপে ভারতীয় বাজার কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। তবে ভারত এখনও বিশ্বের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল বড় অর্থনীতি হিসেবে পরিচিত।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তাইওয়ানের এই অর্জন ভারতের জন্য একটি সতর্কবার্তা। ছোট দেশগুলো যদি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও দক্ষতার উপর জোর দিয়ে এত বড় সাফল্য পেতে পারে, তাহলে ভারতেরও উচিত উৎপাদন খাত, রফতানি বৈচিত্র্যকরণ এবং প্রযুক্তি খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ করা। ভারতের শক্তি তার বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ জনশক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে। কিন্তু গুণগত মান, উৎপাদনশীলতা ও গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে হবে।




















