বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: “তুমি অনবদ্য। তোমার দেশের মানুষের আজ তোমাকে নিয়ে গর্ব করা উচিত।” ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর যখন কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের চোখে বিদায়ের জল, তখন ঠিক এভাবেই তাঁদের অধিনায়ক ভোজিনহাকে বুকে টেনে নিয়ে সান্ত্বনা দিলেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। ফুটবল যে স্রেফ ১২০ মিনিটের কোনো যান্ত্রিক খেলা নয়, বরং তা মানবতা আর পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক বিশাল মঞ্চ মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়াম যেন আরও একবার তার সাক্ষী থাকল।
Also Read | ঘানাকে পিছনে ফেলে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া, চোটের কবলে এই ফুটবলার
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ স্বপ্নের হয়তো সলিল সমাধি ঘটেছে। কিন্তু ৫ লক্ষ মানুষের ছোট্ট দেশের সেই অদম্য গোলরক্ষক ও অধিনায়কের কাছে এই বিদায়বেলার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে রইল আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মহাতারকার ওই কয়েকটি জাদুকরী শব্দ। এই আবেগঘন মুহূর্তের কথা স্মরণ করে ভোজিনহা বলেন, “মেসির মতো একজন কিংবদন্তির কাছ থেকে এমন কথা শোনা আমার কাছে কল্পনাতীত। আমি আপ্লুত হয়ে তাঁকে বলেছিলাম, ‘ধন্যবাদ লিও। তুমিই সর্বকালের সেরা।'”
Also Read | নয়া মরসুমে কোন দলে খেলবেন ব্রাইসন ফার্নান্দেজ?
মাঠের লড়াই শেষে দুই অধিনায়কের এই সুন্দর আদানপ্রদান শুধু কথাতেই আটকে থাকেনি। পরম শ্রদ্ধায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নের জার্সিটি চেয়ে বসেন ভোজিনহা। হাসিমুখেই সেই আবদার মেটান ফুটবল জাদুকর। মেসি তাঁকে কথা দেন, মাঠের সাক্ষাৎকার পর্ব মিটলেই টানেলে গিয়ে তিনি নিজের জার্সিটি তুলে দেবেন ভোজিনহার হাতে।
Also Read | লক্ষ্য মূলপর্ব! এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সহজ গ্রুপে ইস্টবেঙ্গল,
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার তীব্র যন্ত্রণা হয়তো সহজে মুছবে না, কিন্তু ভোজিনহার কাছে এখন সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা এই স্মৃতিগুলোই। স্মৃতিমেদুর কণ্ঠে তিনি জানান, “এই ধরনের মুহূর্তগুলো সারা জীবনের জন্য হৃদয়ের একদম গভীরে খোদাই হয়ে থাকে।” পরাজয়ের গ্লানি ছাপিয়ে মেসির ওই উষ্ণ আলিঙ্গন আর শ্রদ্ধামিশ্রিত শব্দগুলো যেন কেপ ভার্দের লড়াকু ফুটবলারদের বিশ্বমঞ্চে এক চিরস্থায়ী সম্মান দিয়ে গেল।
Also Read | এক লাফে ধুলিসাৎ ২২ বছরের পুরনো রেকর্ড! অ্যাথলেটিক্সে ভারতের নতুন রানির উদয়

