নয়াদিল্লি: ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে একের পর এক সাফল্য আসছে। (defence)দেশের অস্ত্র বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যেখানে অস্ত্র বাণিজ্যে ৬৩ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি ছিল, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা পরিণত হয়েছে ৬৯১ মিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্তে। অর্থাৎ মাত্র আট বছরে এই সংখ্যা দশগুণেরও বেশি বেড়েছে।
প্রতিরক্ষা রফতানি এখন রেকর্ড ৩৮,৪২৪ কোটি টাকা (প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬২.৭ শতাংশ বেশি।একসময় ভারত ছিল বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশগুলির মধ্যে একটি। কিন্তু ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের ফলে চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন দেশ শুধু নিজের প্রয়োজন মেটাচ্ছে না, বিদেশেও অস্ত্র রফতানি করছে।
আরও দেখুনঃ যোগী রাজ্যে স্কুল বাস চালকের ধর্মান্তকরণের ফাঁদে ছাত্রী! নাবালিকার সাহসে শ্রীঘরে মুখতার
আরমেনিয়া, রোমানিয়া, স্লোভেনিয়ার মতো দেশগুলি এখন ভারতীয় অস্ত্রের বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে।রফতানির গন্তব্যস্থলের এই বৈচিত্র্য ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতির সাফল্যকেই তুলে ধরছে।বোমা ও গ্রেনেড এখন ভারতের অস্ত্র রফতানির ৭৮ শতাংশ জায়গা দখল করেছে, যা ২০২০-২১ সালে ছিল মাত্র ২৮ শতাংশ। এই পরিবর্তন দেখিয়ে দিচ্ছে যে ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প ক্রমশ উন্নত প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতার দিকে এগোচ্ছে।
আরও দেখুনঃ দিল্লি দাঙ্গার দুই চক্রী উমর খালিদ-শারজিল ইমামের জামিন খারিজ
একজন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক বলেন, “এই সাফল্য শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগতও। ভারত এখন বিশ্বের অনেক দেশের কাছে নির্ভরযোগ্য অস্ত্র সরবরাহকারী হয়ে উঠছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার বাড়ছে এবং কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে।” প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।ছোট-বড় অনেক ভারতীয় কোম্পানি এখন আধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করছে।
আরও দেখুনঃ টেলিগ্রামে ‘পাইরেসির’ রমরমা, কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের, ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব
উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, গুজরাটের মতো রাজ্যগুলিতে প্রতিরক্ষা শিল্পের হাব গড়ে উঠছে। হাজার হাজার যুবক এখানে চাকরি পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা খাতে যে পরিকল্পিত উন্নয়ন হয়েছে, তার ফল এখন স্পষ্ট। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের আওতায় সরকার আমদানি কমিয়ে রফতানি বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছে।
ফলে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয়ও অনেকাংশে সাশ্রয় হচ্ছে।তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও অনেক পথ বাকি। আরও উন্নত প্রযুক্তি, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশনের দিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে রফতানির ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
আরও দেখুনঃ


