নয়াদিল্লি: অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাইরেটেড সিনেমা এবং ওটিটি (OTT) কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ নিয়ে এ বার কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় সরকার। অভিযোগ, টেলিগ্রামের মতো মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে অবাধে ঘুরছে কপিরাইটযুক্ত সিনেমার পাইরেটেড সংস্করণ। ০০.৩এই ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে টেলিগ্রামকে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। সূত্রের খবর, এই নির্দেশের পর ১৫ দিনের মধ্যে টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষকে তাদের নেওয়া পদক্ষেপের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
কেন এই পদক্ষেপ?
সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজের পাইরেসির ফলে ভারতীয় বিনোদন জগতের প্রযোজক, পরিবেশক এবং প্ল্যাটফর্ম মালিকরা যে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ আসছিল। ইন্ডাস্ট্রি বডির ক্রমাগত চাপের মুখে পড়ে অবশেষে সক্রিয় হল মন্ত্রক। কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারতের ক্রিয়েটর ইকোনমিকে সুরক্ষিত রাখা এবং কপিরাইট লঙ্ঘনের মতো অপরাধ রুখতেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউজারনেম ফিচার নিয়েও উদ্বেগ
শুধু পাইরেসি নয়, টেলিগ্রাম এবং সিগন্যালের ‘ইউজারনেম’ (Username) ফিচার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)। ডিজিটাল জালিয়াতি, ফিশিং এবং অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কাতেই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। মেটা-কেও একই ধরনের নোটিস পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। মন্ত্রকের আশঙ্কা, এই ফিচারের অপব্যবহার করে প্রতারকরা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়ে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর মতো জালিয়াতি করতে পারে।
অতীতেও সংঘাত
টেলিগ্রামের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সংঘাত নতুন নয়। গত জুনে ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষার আগে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে টেলিগ্রামের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল কেন্দ্র। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল টেলিগ্রাম, কিন্তু আদালত সরকারি সিদ্ধান্তকেই বহাল রেখেছিল।
এখন দেখার, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের এই কড়া নির্দেশের পর টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ ঠিক কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং ১৫ দিনের সময়সীমার মধ্যে তারা সন্তোষজনক রিপোর্ট জমা দিতে পারে কি না।


