মমতার এক কথাতেই সব সম্পর্ক ছিন্ন চন্দ্রিমার!

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড়সড় চমক। ৩ জুন দলীয় সিদ্ধান্তে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে (Chandrima Bhattacharya) রাজ্য সভানেত্রী পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই…

Kasba Case: 'Why Doesn't the Team Go to Find Facts in BJP-Ruled States?' Asks Chandrima Bhattacharya"

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড়সড় চমক। ৩ জুন দলীয় সিদ্ধান্তে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে (Chandrima Bhattacharya) রাজ্য সভানেত্রী পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শনিবার সেই পদ-সহ সমস্ত দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন চন্দ্রিমা। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা।

আরও পড়ুন: ‘সফল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বাংলায় বিধান চন্দ্র রায়ের পরই শুভেন্দু!’ দাবি তথাগতর

   

যে নেত্রী একসময় নির্বাচনী পরাজয়ের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে নিয়মিত দেখা যেতেন, কালীঘাটে যাতায়াত করতেন এবং তৃণমূলের পার্টি অফিসে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থাকতেন, তাঁর হঠাৎ পদত্যাগে প্রশ্ন উঠছে—কী এমন ঘটল গত ২৪ ঘণ্টায়? বিশেষ করে শুক্রবারও তিনি কলকাতার মেট্রোপলিটনে তৃণমূল পার্টি অফিসে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় ঋতব্রত শিবিরের কিছু নেতা ওই ভবনে প্রবেশ করেন বলেও জানা যায়। কিন্তু চন্দ্রিমা সেই সময় অফিসে উপস্থিত থাকলেও পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। আর তার ঠিক পরদিনই আসে এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুন :জোড়াবাগানে হুড়মুড়িয়ে ভাঙল দোতলা বাড়ি, উদ্ধার বৃদ্ধা-সহ ৪

ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা উঠে আসছে। অনেকে মনে করছেন, দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে টানাপোড়েনই এই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকতে পারে। তবে সরাসরি কোনও গোষ্ঠী বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি চন্দ্রিমা।

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নিজে এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, “আমি আনুগত্য দেখানোর চেষ্টা করেছিলাম। কোথাও খামতি ছিল না। আমি এ ব্যাপারে নিজের কাছে পরিষ্কার। কিন্তু দেখলাম, সেটাই প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ল।” তাঁর এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, দলীয় দায়িত্ব পালনের পরও নিজের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তিনি আঘাত পেয়েছেন।

তিনি আরও জানান, তৃণমূল ভবনে গতকাল ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। সেই আলোচনায় মমতা তাঁকে বলেন, “ভবনটা ওদের হাতে তুলে দিলে?” এই মন্তব্যেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে চন্দ্রিমার দাবি। তাঁর বক্তব্য, তিনি কখনও কোনও কিছু “হস্তান্তর” করেননি বা কারও হাতে দলীয় ভবনের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেননি। প্রতিদিন যতক্ষণ তিনি সেখানে ছিলেন, ততক্ষণ নিজের দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করেছেন বলেই দাবি তাঁর।

চন্দ্রিমা বলেন, “আমার কাছে কেউ আসেনি। আমার সঙ্গে ওদের দেখাও হয়নি। ওরা ঢুকেছে, আমি দেখিনি। আমার ঘরে কেউ আসেনি। আমাকে বলা হল, আমি ওদের হাতে তুলে দিয়েছি। আমার দুঃখ লেগেছে।” তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্য তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

এই ঘটনার পরই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন চন্দ্রিমা। তবে ঋতব্রত শিবিরের কার্যকলাপ বা সেই সময়কার ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তিনি সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে বিষয়টি আরও ধোঁয়াশার মধ্যে থেকে যাচ্ছে।