পুদুচেরি ক্রিকেটে এক ভয়াবহ ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কোচের উপর হামলার অভিযোগে তিন জন প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটারকে কঠোর শাস্তি দিয়েছে পুদুচেরি ক্রিকেট সংস্থা। অভিযুক্ত ক্রিকেটাররা হলেন জে কার্তিকেয়ন, এ অরবিন্দরাজ এবং এস সন্তোষ কুমারন। তাঁদের বিরুদ্ধে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ এস বেঙ্কটরামনের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর। অভিযোগ অনুযায়ী, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির দলে সুযোগ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই তিন ক্রিকেটার কোচের উপর চড়াও হন। সেই হামলায় গুরুতর জখম হন বেঙ্কটরামন। তাঁর মাথায় আঘাত লাগে এবং কাঁধের হাড় ভেঙে যায় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং মামলা দায়ের করা হয়। পরে চার্জশিটও জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন।
পুদুচেরি ক্রিকেট সংস্থা জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তাই তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁদের ক্রিকেটের সব ধরনের কার্যকলাপ থেকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা হয়েছে। শুধু মাঠে খেলা নয়, সংস্থার অধীনে থাকা কোনও মাঠ, দপ্তর বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তাঁদের প্রবেশও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশের ভিতরে কিংবা বিদেশে সংস্থার হয়ে কোনও প্রতিযোগিতায়ও তাঁরা অংশ নিতে পারবেন না।
সংস্থা আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আদালত চূড়ান্ত রায় না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। যদি আদালত তাঁদের নির্দোষ বলে ঘোষণা করে, তবেই ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে। সংস্থার মতে, খেলাধুলার পরিবেশে হিংসা, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অসভ্য আচরণের কোনও জায়গা নেই। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপদ এবং পেশাদার পরিবেশ বজায় রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এই ঘটনার পর পুদুচেরি ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ সমস্যাও সামনে এসেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, স্থানীয় প্রতিভাবান ক্রিকেটাররা সঠিক সুযোগ পাচ্ছেন না। বাইরে থেকে আসা কিছু খেলোয়াড় নাকি ভুয়ো নথি ব্যবহার করে দলে জায়গা করে নিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত যোগ্য খেলোয়াড়রা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই এই ঘটনা শুধু তিন ক্রিকেটারের শাস্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি পুদুচেরি ক্রিকেটের ভিতরে জমে থাকা অসন্তোষ, অস্বচ্ছতা এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার দিকেও ইঙ্গিত করছে। এখন সবার নজর আদালতের রায় এবং ভবিষ্যতে সংস্থা কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই।




















