বিহারে এনডিএ ঝড়, শূন্য হাতে প্রশান্ত কিশোর! JSP-র ভবিষ্যৎ কোন পথে?

বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণে ফের একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল নীতিশ–তেজস্বী দ্বৈরথের প্রভাব। আর সেই দুই মেরুর সংঘাতে প্রায় আবছা হয়ে গেল প্রশান্ত কিশোরের ‘জন সুরাজ পার্টি’ (JSP)। ২৩৮টি আসনে ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
Prashant Kishor Jan Suraaj Party Failure

বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণে ফের একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল নীতিশ–তেজস্বী দ্বৈরথের প্রভাব। আর সেই দুই মেরুর সংঘাতে প্রায় আবছা হয়ে গেল প্রশান্ত কিশোরের ‘জন সুরাজ পার্টি’ (JSP)। ২৩৮টি আসনে লড়েও একটিও সিট দখল করতে পারল না JSP—বিহার নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলে প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক পরীক্ষানিরীক্ষা বড় ধাক্কা খেল।

‘দশ নয়, দেড়শো’, তবু শেষে শূন্য

ভোটের সপ্তাহ দুয়েক আগে ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে প্রশান্ত কিশোর বলেছিলেন—
“আমাদের হয় দশের কম, নয় তো দেড়শোর বেশি আসন হবে। মানুষ যদি একটু ভরসা করেন, তাহলে সব হিসাব বদলে যাবে। আর যদি ভরসা না করেন, তাহলে দশটাও জুটবে না।”

   

ভোটের দিনশেষে ফলাফল ঠিক সেই ভবিষ্যদ্বাণীর কঠিন দিকটাই সামনে আনল—দশ না পাওয়া তো দূর, একটি আসনেও খাতা খুলতে পারল না JSP। ভোটগণনার শুরুর দিকে চারটি আসনে অল্প লিড মিললেও কয়েক রাউন্ডের মধ্যেই তা মিলিয়ে যায়।

JSP-র সামনে কঠিন বাস্তব Prashant Kishor Jan Suraaj Party Failure

প্রশান্ত কিশোর বিহারে নিজস্ব রাজনৈতিক দল গড়ে নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন। দীর্ঘদিন নির্বাচনী কৌশলী হিসেবে সফলতার পর সরাসরি রাজনীতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ‘জন সুরাজ’ মডেলে তাঁকে ঘিরে কিছু প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ভোটের এই ফলাফল স্পষ্ট করে দিল—বিহারের জমিতে JSP এখনো জনভরসা গড়তে পারেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত কিশোরের প্রধান লক্ষ্য ছিল—বিহারে JSP-কে একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। সে দিক থেকে দলটি কিছুটা পরিচিতি পেলেও ভোটের ফল প্রমাণ করল, বিহারের মূল স্রোতের লড়াই থেকে JSP অনেকটাই দূরে। এনডিএ-র বিজয়ে বিজেপি–জেডিইউ জোটের আধিপত্য আরও দৃঢ় হয়ে গেল। এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় শক্তি হিসেবে জায়গা করে নেওয়া সহজ নয়।

তাহলে প্রশান্ত কিশোরের ভবিষ্যত কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফলের পর প্রশান্ত কিশোরের সামনে তিনটি বড় পথ খুলে রয়েছে—

১) গোড়া থেকে সংগঠন পুনর্গঠন

JSP যে ‘গ্রাউন্ড কানেক্ট’-এর ঘাটতিতে ভুগছে, তা এবার স্পষ্ট। গ্রামে–মহল্লায় সংগঠন দাঁড় করানো, স্থানীয় নেতৃত্ব তৈরি করা, সামাজিক ইস্যুতে নিজস্ব অবস্থান দাঁড় করানো—এই সবই এখন PK-র প্রধান চ্যালেঞ্জ।

২) রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে ফিরে যাওয়া

যেখান থেকে তাঁর উত্থান—সেই রাজনৈতিক কৌশলী বা ‘স্ট্র্যাটেজিস্ট’ ভূমিকায় তিনি আবার ফিরবেন কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ভারতের বহু নির্বাচনে তাঁর ‘ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট’ দাপট দেখিয়েছে। বিহারের ফলাফল তাঁকে কি সেই পুরনো ভূমিকায় ফের ভাবাবে?

৩) JSP-র স্ট্র্যাটেজি পাল্টানো

কিছু বিশ্লেষকের মতে, দলের নীতিনির্ধারণ, প্রার্থী বাছাই, প্রচারের ধরণ—সব কিছুতেই বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন। দলকে আরও আঞ্চলিক ও জনভিত্তিক করতে না পারলে ভবিষ্যতে JSP-র জন্য পথ আরও কঠিন হবে।

কঠিন সত্য

বিহারের রাজনীতিতে JSP আপাতত প্রভাব ফেলতে পারেনি—এটা এক কঠিন সত্য। এনডিএ-র জয়ে নীতিশ–বিজেপি জোটের অবস্থান আরও মজবুত। সেই জমির মাঝে তৃতীয় শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে গেলে প্রশান্ত কিশোরকে দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ে নামতে হবে—সংগঠন, জনভরসা এবং নতুন রাজনৈতিক ভাষা গড়ার লড়াই।

ভবিষ্যতে তিনি কোন পথ বেছে নেন—রাজনৈতিক ময়দানে লড়াই, না কি পুরনো কৌশলী ভূমিকায় প্রত্যাবর্তন—এখন তাকিয়ে আছে বিহার রাজনীতি।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google