বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগে পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত এক প্রাথমিক শিক্ষকের (Panihati election)বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। দলের তরফে বলা হয়েছে, ওয়ার্ড নম্বর ৩-এর চার্জ অফিসার হিসেবে নিয়োজিত দেবেশ চক্রবর্তী পূর্ণকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী এবং নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করছেন।
একটি ছবিতে তাঁকে চিহ্নিত করে বিজেপি নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে তাঁকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে।ঘটনাটি পানিহাটি পৌরসভার ওয়ার্ড নম্বর ৩-কে ঘিরে। বিজেপির অভিযোগ অনুসারে, দেবেশ চক্রবর্তী একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেও তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের (এআইটিসি) পূর্ণ সময়ের সক্রিয় কর্মী। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় তিনি দলীয় স্বার্থে কাজ করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ওডিশার বিপক্ষে নামার আগে কী বললেন সোজবার্গ?
নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং এক্স হ্যান্ডেলে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “ছবিতে যে ব্যক্তিকে ঘিরে দেখানো হয়েছে তিনি দেবেশ চক্রবর্তী। তিনি পানিহাটি পৌরসভার ওয়ার্ড নম্বর ৩-এর চার্জ অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি তৃণমূলের পূর্ণকালীন কর্মী এবং নির্বাচনে পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করছেন। আমি নির্বাচন কমিশন ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাঁকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হোক।”
এই অভিযোগ সামনে আসার পর পানিহাটি এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা অত্যন্ত জরুরি। যদি কোনো কর্মী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকেন এবং দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়ে।
পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র এবারের নির্বাচনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখানে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। বিজেপির এই অভিযোগের পর তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে দলের কিছু কর্মী বলছেন যে, এটি বিজেপির রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা জোর দিয়ে বলছেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুসারে কোনো সরকারি কর্মী যদি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন, তাহলে তাঁকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা উচিত।নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা স্পষ্ট নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখালে তা মডেল কোড অফ কন্ডাক্টের লঙ্ঘন বলে গণ্য হয়। বিজেপির অভিযোগের পর এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কত দ্রুত এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।




















