দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রাজ্যে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রশাসনিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হচ্ছে। (Manoj Kumar CEO)এই প্রেক্ষিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নির্বাচন প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এসে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। তিনি জানিয়েছেন, জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং প্রশাসন একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
আরও দেখুনঃ দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে জেলায় জেলায় রেকর্ড সাঁজোয়া
পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মনোজ আগরওয়াল বলেন, “আমি নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি সন্তোষজনক। আমরা চাই মানুষ নির্ভয়ে, স্বাধীনভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হল ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা এবং কোনওরকম ভয়ভীতি ছাড়া ভোটদান নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে অতীতেও ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস বা নির্বাচন চলাকালীন অনেক হিংসার ঘটনার উদাহরণ আছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত কড়া পদক্ষেপে সন্ত্রাস দমন করা।
আরও দেখুনঃ ‘৪ তারিখ ভয়ঙ্কর খেলব’ ডায়মন্ড হারবারে সাধারণ ভোটারদের হুমকির অভিযোগে কমিশনের কড়া পদক্ষেপ
আগরওয়াল আরও জানান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ভোটদানের হার সাধারণত ৭৬ থেকে ৮২ শতাংশের মধ্যে থাকে, যা রাজ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এবারও যাতে সেই প্রবণতা বজায় থাকে, তার জন্য সাধারণ মানুষকে এগিয়ে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হল মানুষের অংশগ্রহণ, তাই প্রত্যেক ভোটারের দায়িত্ব নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অশান্তি বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন যথেষ্ট সতর্ক রয়েছে। মনোজ কুমার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “কেউ যদি ভোট প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই বার্তা দিয়ে তিনি একদিকে যেমন দুষ্কৃতীদের সতর্ক করেছেন, তেমনি সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করেছেন যে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
আরও দেখুনঃ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য অভিনেতা দিগন্ত তৃণমূলের মঞ্চে কেন! প্রশ্ন শুভেন্দুর
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং সেগুলির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী বা CAPF মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। এই ধরনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। তিনি বলেন, নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে সকল পক্ষের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তাই প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে তাঁর অনুরোধ, তারা যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করে এবং ভোটারদের মধ্যে কোনওরকম উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা না করে।
স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের মতে, এবার নির্বাচনকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার প্রতিটি স্তরে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সংবেদনশীল বুথগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে কোনওরকম সমস্যা না হয়।




















