ফের বিতর্কিত আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তার সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য ঘিরে আবারও জাতীয় রাজনীতিতে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার মুম্বইয়ে ‘১০০ ইয়ার্স অব দ্য সংঘ জার্নি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “ভারতে যারা বাস করেন, সবাই হিন্দু।” তাঁর দাবি, “হিন্দু” কোনো বিশেষ ধর্মীয় পরিচয় নয়, বরং ভারতের সভ্যতাগত স্বভাব বা সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতিফলন।
ভাগবত বলেন, ভারত বিশ্বনেতা হবে বক্তৃতার মাধ্যমে নয়, উদাহরণ স্থাপন করে। তাঁর বক্তব্য, “আপনি যদি ভারতীয় হন, তাহলে এই স্বভাব আপনার মধ্যেই রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, ভারতের মুসলিম ও খ্রিস্টানরাও এই দেশেরই অংশ এবং সমাজ হিসেবে সবাই এক।
আরও দেখুন:‘খুনি’ রবীন্দ্রনাথকে সাসপেন্ড করে অর্জুনকে বার্তা পার্থর!
এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরএসএস প্রধান ‘হিন্দু’ পরিচয়ের চারটি শ্রেণির কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, প্রথম শ্রেণিতে রয়েছেন তারা, যারা গর্ব করে বলেন, “আমরা হিন্দু।” দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ বলেন, “আমরা হিন্দু, এতে গর্ব করার কী আছে?” তৃতীয় শ্রেণির মানুষ নীরবে নিজেদের হিন্দু পরিচয় মেনে চলেন, প্রকাশ্যে তা বলতে চান না। আর চতুর্থ শ্রেণিতে রয়েছেন তারা, যারা নিজেদের হিন্দু পরিচয় ভুলে গেছেন বা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আরও অনেক মানুষকে এই পরিচয় ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ভাগবত বলেন, ভারতের বিভাজন বা দেশভাগ ঘটেছিল ‘হিন্দু ভাব’ ভুলে যাওয়ার কারণেই। তাঁর বক্তব্য, “দেশভাগ হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে। আমরা বলেছিলাম, সব ধর্মকে সম্মান করি, কারণ আমরা হিন্দু। কিন্তু কেউ কেউ বলেছিলেন, সেটা ভুল। তবু ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্ম ভারতে রয়ে গেছে, কিছু সংঘাত থাকলেও দেশ একসঙ্গেই আছে।”
হিন্দুত্ব গ্রহণ করলে কারও ধর্ম, ভাষা বা সংস্কৃতি হারাতে হয় না বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “হিন্দুত্ব গ্রহণ করলে আপনার ধর্মাচরণ, ভাষা বা খাদ্যাভ্যাস কিছুই বদলাতে হবে না। হিন্দুত্ব আপনার নিরাপত্তার গ্যারান্টি।” তিনি আরও বলেন, মানুষের বিশ্বাস, ভাষা বা খাদ্যাভ্যাস ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সমাজ, সংস্কৃতি ও জাতি হিসেবে সবাই এক। “আমরা একে হিন্দুত্ব বলি, কেউ চাইলে একে ভারতীয়তাও বলতে পারেন,” বলেন আরএসএস প্রধান।
ভাগবত আরও দাবি করেন, “হিন্দু-মুসলিম ঐক্য” কথাটাই ভুল, কারণ যারা আগে থেকেই এক, তাদের আবার ঐক্যবদ্ধ করার কথা বলা যায় না। তিনি বলেন, আরএসএস সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করতে হলে সরাসরি সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করা দরকার। “যদি বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে কেউ আমাদের সমালোচনা করেন, আমরা তা গ্রহণ করব। কিন্তু সত্য জানতে হলে আমাদের কাছে আসতে হবে,” বলেন তিনি।
পরিবারের ভেতরে সংলাপ বাড়ানোর ওপরও জোর দেন ভাগবত। তাঁর মতে, পরিবারের মধ্যে কথা বলার পরিবেশ থাকলে তরুণ প্রজন্ম মাদকাসক্তি বা আত্মহত্যার মতো সমস্যার দিকে ঝুঁকবে না। আত্মগৌরব ও আত্মপরিচয় সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার কথাও তিনি বলেন।
মুম্বইয়ের ওয়ারলির নেহরু সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বলিউড অভিনেতা সলমন খান, চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ ঘাই ও গীতিকার প্রসূন জোশিও উপস্থিত ছিলেন। দুই দিনের এই বক্তৃতামালায় আরএসএসের শতবর্ষের যাত্রা, সমাজে তাদের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।




















