অরিত্রী চন্দ, কলকাতা: চকোলেট (Chocolate) কিংবা ক্যান্ডি ছোট থেকে বড়, প্রায় সকলেরই প্রিয়। জন্মদিন, উৎসব বা বিশেষ উপলক্ষে এগুলির চাহিদা আরও বেড়ে যায়। বাজারে এখন নানা ধরনের চকোলেট ও ক্যান্ডি মিলছে। অনেক পণ্যের মোড়কে বড় বড় অক্ষরে লেখা থাকে ‘ডার্ক চকোলেট’, ‘লো সুগার’, ‘ন্যাচারাল’, ‘হেলদি’ বা ‘প্রিমিয়াম’। তবে শুধুমাত্র এই ধরনের প্রচারমূলক দাবি দেখে কোনও পণ্য কেনা উচিত নয় বলেই মত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের মতে, সচেতন ক্রেতার প্রথম কাজ হওয়া উচিত পণ্যের লেবেল ভালোভাবে পড়ে নেওয়া।
উপাদানের তালিকাই বলে দেয় আসল তথ্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও চকোলেট বা ক্যান্ডি কেনার আগে প্রথমেই Ingredients বা উপাদানের তালিকায় নজর দেওয়া উচিত। সাধারণত যে উপাদানটি তালিকার শুরুতে থাকে, সেই উপাদানের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই যদি প্রথমেই চিনি, গ্লুকোজ সিরাপ, কর্ন সিরাপ বা অন্য কোনও মিষ্টিকারকের নাম দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে ওই পণ্যটিতে চিনির পরিমাণ বেশি।
অনেক সময় মোড়কে ‘লো সুগার’ বা ‘ডার্ক’ লেখা থাকলেও বাস্তবে তাতে যথেষ্ট পরিমাণ চিনি থাকতে পারে। তাই শুধু প্যাকেটের সামনের দাবি নয়, সম্পূর্ণ উপাদান তালিকা পড়েই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
Also Read | ঘড়ির বিজ্ঞাপনে প্রায় সবসময়ই ১০:১০ কেন দেখানো হয়? কারণ জানলে অবাক হবেন
নিউট্রিশন লেবেল পড়া কেন জরুরি?
পুষ্টিবিদদের মতে, Nutrition Information অংশটি কখনও এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
সেখানে সাধারণত উল্লেখ থাকে:
• প্রতি পরিবেশনে কত ক্যালোরি রয়েছে
• চিনির পরিমাণ
• ফ্যাটের পরিমাণ
• প্রোটিন
• সোডিয়াম
বিশেষ করে যাঁরা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করছেন, তাঁদের জন্য এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Also Read | কাঞ্চীপুরম থেকে কাসাভু, কেন বাড়ছে দক্ষিণী শাড়ির জনপ্রিয়তা? জানুন বিশেষত্ব
ডার্ক চকোলেট মানেই কি স্বাস্থ্যকর?
অনেকেই মনে করেন, ডার্ক চকোলেট মানেই স্বাস্থ্যকর। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এতটা সরল নয়।
চকোলেটের ক্ষেত্রে কোকোর শতাংশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে কোকোর পরিমাণ যত বেশি, তত সেটিকে তুলনামূলকভাবে ভালো মানের ডার্ক চকোলেট হিসেবে ধরা হয়।
অন্যদিকে কিছু পণ্যে কোকোর পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিজ্জ তেল বা কৃত্রিম উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা স্বাদ ও গুণমান দুটিতেই প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কোকোর পরিমাণ এবং ব্যবহৃত ফ্যাটের ধরন দেখে নেওয়াও জরুরি।
অ্যালার্জির ঝুঁকি থাকলে অবশ্যই লেবেল পড়ুন
চকোলেট বা ক্যান্ডির লেবেলে কৃত্রিম রং, ফ্লেভার, সংরক্ষণকারী উপাদান এবং সম্ভাব্য অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানের তথ্যও উল্লেখ থাকে।
বিশেষ করে যাঁদের:
• দুধে অ্যালার্জি
• বাদামে অ্যালার্জি
• সয়াবিনে অ্যালার্জি
• গমজাত খাবারে অ্যালার্জি
রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই এই অংশটি ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত। অসাবধানতাবশত এমন কোনও পণ্য খেলে গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদও দেখুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু উপাদান নয়, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়সীমা (Best Before) এবং সংরক্ষণের নির্দেশও দেখে নেওয়া জরুরি।
দীর্ঘদিন দোকানে পড়ে থাকা বা সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা চকোলেটের স্বাদ ও গুণমান নষ্ট হতে পারে। তাই কেনার আগে প্যাকেট অক্ষত রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার নেই
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চকোলেট বা ক্যান্ডি সম্পূর্ণভাবে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কী খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন এবং সেই পণ্যে কী কী উপাদান রয়েছে, সে সম্পর্কে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁদের মতে, শুধু আকর্ষণীয় মোড়ক বা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা না করে লেবেল পড়ে পণ্যের গুণগত মান বিচার করার অভ্যাস গড়ে তুললে অপ্রয়োজনীয় চিনি, কৃত্রিম উপাদান এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। সচেতন কেনাকাটার এই ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।





