আক্রমণ বন্ধ না হলে পাক সেনার হয়ে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি লস্করের

ইসলামাবাদ: দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনার সুর শোনা যাচ্ছে (LeT warning to Afghanistan)। পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে চলতে থাকা অস্থিরতার মধ্যেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে লস্কর-এ-তইবা (LeT)। সংগঠনের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
let-warns-afghanistan-qari-yaqoob-sheikh-statement

ইসলামাবাদ: দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনার সুর শোনা যাচ্ছে (LeT warning to Afghanistan)। পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে চলতে থাকা অস্থিরতার মধ্যেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে লস্কর-এ-তইবা (LeT)।

সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও হাফিজ সায়েদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ক্বারি ইয়াকুব শেখ প্রকাশ্যে দাবি করেছেন আফগানিস্তানের ভেতর থেকে পাকিস্তানবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ‘প্রতিবাদ’ জানাতে প্রস্তুত। তাঁর এই মন্তব্য নিঃসন্দেহে অঞ্চলের কূটনৈতিক আবহে নতুন বারুদের গন্ধ ছড়িয়েছে।

   

ঘটনার সূত্রপাত পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে সাম্প্রতিক নেতৃত্ব পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে। নতুন চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্স (CDF) হিসেবে জেনারেল আসিম মুনিরের দায়িত্ব গ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছেন ইয়াকুব শেখ। তাঁর মতে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা নীতি নতুন দিশা ও দৃঢ়তা পাবে এই নেতৃত্বে। তবে বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল আফগানিস্তানকে উদ্দেশ করে কঠোর সতর্কতা। তিনি দাবি করেন, আফগানিস্তানের ভেতর থেকে পাকিস্তানবিরোধী সংগঠনগুলি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এবং কাবুল সরকার সেগুলি বন্ধ করতে ব্যর্থ।

টাইম আপ! SIR-এর প্রথম ধাপ শেষ, লিস্টে আপনার নাম আছে কি না, দেখবেন কী ভাবে?

এদিকে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (PaK) এবং আফগানিস্তানের কয়েকজন উলেমা প্রকাশ্যে একটি ফতোয়া জারি করেছেন যেখানে বলা হয়েছে, কোনো মুসলিম দেশের উচিত নয় নিজেদের ভূখণ্ড অন্য মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া। এই ফতোয়াও বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। ইসলামাবাদ সূত্রের দাবি, আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে পাকিস্তানবিরোধী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে, যার জেরে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত হামলার মুখে পড়ছে।

কাবুল অবশ্য বারবার জানিয়েছে, তারা তাদের ভূখণ্ডে কোনো বিদেশবিরোধী সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় দেয় না। কিন্তু সীমান্তবর্তী দুর্গম অঞ্চলের বাস্তবতা প্রায়ই দুই রাষ্ট্রের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করেছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) সহ একাধিক সংগঠন আফগান মাটিতে নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালায়।

এই প্রেক্ষাপটে ক্বারি ইয়াকুব শেখের প্রকাশ্য বিবৃতি রাজনৈতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর মন্তব্য শুধু একটি সংগঠনের হুঁশিয়ারি নয় বরং পাকিস্তান অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা নীতির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করার লক্ষণ। আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক বহুদিন ধরেই চ্যালেঞ্জের মুখে, কিন্তু এই ধরনের উগ্র বিবৃতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এখনো পর্যন্ত এই মন্তব্যে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। সূত্রের দাবি, ইসলামাবাদ আপাতত কূটনৈতিক পথেই সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলি তাদের কঠোর অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে। নতুন CDF আসিম মুনিরের অধীনে সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোরতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের প্রতিক্রিয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কাবুল যদি পাকিস্তানবিরোধী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেয়, তবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়বে বলে অনুমান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এর ফলে শুধু পাকিস্তান-আফগানিস্তান নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

দুই দেশের সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত, সন্দেহ, সন্ত্রাস ও পাল্টা অভিযানের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, ক্বারি ইয়াকুব শেখের নতুন মন্তব্য সেই সংকটকে আরেক ধাপ এগিয়ে দিল যদিও আন্তর্জাতিক মহল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনো অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংগঠনের উস্কানি বা হুমকির মাধ্যমে সীমান্ত-রাজনীতি নির্ধারিত হতে পারে না।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google