ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন আইপিএলের প্রাক্তন কর্তা ললিত মোদি। তাঁর অভিযোগ, অতিরিক্ত ম্যাচের চাপে ক্রিকেটারদের কার্যত নিঃশেষ করে দেওয়া হচ্ছে। খেলোয়াড়দের বিশ্রাম, মানসিক স্বস্তি কিংবা শারীরিক পুনরুদ্ধারের কথা না ভেবে শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যেই সূচি তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। সম্প্রতি ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরও ঠাসা ক্রীড়াসূচি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে সরব হন ললিত মোদি। তাঁর বক্তব্য, আইপিএল শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের আবার আন্তর্জাতিক সিরিজে নামতে হচ্ছে, যা একেবারেই অমানবিক। তিনি মনে করেন, একজন পেশাদার ক্রিকেটারের শুধু মাঠে খেলার সময়ই নয়, খেলার বাইরে বিশ্রাম নেওয়ার সময়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ৩১ মে আইপিএল শেষ হওয়ার পর ৬ জুন থেকেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ শুরু হওয়ার কথা। অর্থাৎ যাঁরা পুরো আইপিএল খেলবেন, তাঁদের হাতে প্রায় কোনও বিরতির সুযোগই থাকবে না। এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন ললিত। তাঁর মতে, ক্রিকেটারদেরও পরিবার রয়েছে, ব্যক্তিগত জীবন রয়েছে। টানা সফর, অনুশীলন এবং ম্যাচের চাপে তাঁদের স্বাভাবিক জীবন প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে।
ললিত মোদি আরও বলেন, বোর্ডের অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই শক্তিশালী যে বাড়তি আয়ের জন্য ক্রিকেটারদের উপর এমন চাপ তৈরি করার কোনও প্রয়োজন নেই। তাঁর দাবি, আইপিএলের সাফল্যের ফলে বোর্ড ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রিকেট সংস্থায় পরিণত হয়েছে। তাই আরও বেশি লাভের আশায় খেলোয়াড়দের ক্লান্ত করে দেওয়া উচিত নয়। তিনি মনে করেন, ক্রিকেটারদের সুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ারকে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার। অতিরিক্ত খেলার ফলে চোটের ঝুঁকি বাড়ে, মানসিক অবসাদ তৈরি হয় এবং পারফরম্যান্সেও প্রভাব পড়ে। এতে শুধু খেলোয়াড়দেরই ক্ষতি হয় না, দেশের ক্রিকেটও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভারতের টেস্ট অধিনায়ক শুভমান গিলও সম্প্রতি মত প্রকাশ করেছিলেন যে, কোনও টেস্ট সিরিজে নামার আগে অন্তত দু’সপ্তাহের প্রস্তুতি সময় থাকা উচিত। কিন্তু সেই পরামর্শকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে জানা যাচ্ছে। এতে বোঝাই যাচ্ছে, ক্রিকেটারদের মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কিছুদিন আগেই আইপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য করেছিলেন ললিত মোদি। তিনি বলেছিলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রতিযোগিতা আরও বড় আর্থিক উচ্চতায় পৌঁছবে।
কিন্তু একইসঙ্গে তিনি এখন সতর্ক করে দিয়েছেন, শুধুমাত্র অর্থ নয়, খেলোয়াড়দের কল্যাণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ললিতের স্পষ্ট মত, আইপিএল থেকেই যদি বিপুল আয় হয়, তবে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে ক্রিকেটারদের বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁর বার্তা পরিষ্কার—ক্রিকেট টিকিয়ে রাখতে হলে আগে ক্রিকেটারদের রক্ষা করতে হবে।




















