ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ চরমে উঠছে। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan) এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার মধ্যে বাকযুদ্ধ এখন আলোচনার কেন্দ্রে। সিনেমার জনপ্রিয় সংলাপ টেনে এনে জাহাঙ্গির খান যেভাবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, তা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
একাধিক জনসভা থেকে জাহাঙ্গির খানের (Jahangir Khan) বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি এই লড়াইকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখছেন না, বরং এটিকে মর্যাদা ও আত্মসম্মানের প্রশ্ন হিসেবেও তুলে ধরছেন। তিনি বলেন, “কেউ যদি নিজেকে সিঙ্ঘম মনে করেন, তাহলে আমরা পুষ্পা রাজ ঝুকেগা নেহি।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরাসরি অজয় পাল শর্মাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তাঁর বক্তব্যে সিনেমার রেফারেন্স থাকলেও, বার্তাটি ছিল স্পষ্ট ভয় দেখিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে তাঁদের দমিয়ে রাখা যাবে না।
জাহাঙ্গির খান আরও বলেন, “কে কোন এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট আমরা জানি না। আমরা সিনেমা দেখেছি সলমন খানের ‘ওয়ান্টেড’, ‘কিক’, ‘জনতা কা আদালত’। কিন্তু বাস্তবের মাটিতে মানুষকে ভয় দেখিয়ে চুপ করানো যাবে না।” তাঁর এই বক্তব্যে বোঝা যায়, তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ করছেন।
এরপর তিনি আরও তীব্র ভাষায় বলেন, “আমরা পুষ্পা রাজ। ঝুকেগা নেহি। মৃত্যু মেনে নেব, কিন্তু মাথা নত করব না।” তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে প্রবল উত্তেজনা তৈরি করে। তিনি অভিযোগ করেন, দিল্লি থেকে অফিসার এনে এলাকায় চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “দিল্লির পুলিশের চমকানোতে আমরা ভয় পাই না। ওনার চমকানো কতটা বাড়ে, আমরা দেখব।” তবে তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ বিশেষভাবে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে তিনি বলেন, “আমাদের এলাকার মা-বোনেরা উত্তেজিত হচ্ছে। ওরা এক হলে কী হতে পারে, তা সবাই জানে।” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিরোধী শিবিরের দাবি, এই ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অশান্তি ছড়াতে পারে। জাহাঙ্গির খান আরও দাবি করেন, কেন্দ্রীয় প্রভাব খাটিয়ে ভোটের আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, “দেশের টাকা খরচ করে দিল্লি থেকে অফিসার এনে এখানে ডায়লগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতে কোনও লাভ হবে না।” তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ফলতার মানুষই শেষ কথা বলবে।
তিনি বলেন, “ফলতার গণদেবতা ২৯ তারিখে জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে বিজেপির জামানত জব্দ করবে।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি নিজের জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী এবং ভোটারদের ওপর তাঁর আস্থা প্রবল




















