কোথায় কোথায় পুনর্নির্বাচন? জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে ইভিএম কারচুপি ও নির্বাচনী (EVM Tampering) অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর রাজ্য নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। একাধিক বুথে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি এখন ...

By Suparna Parui

Published:

Follow Us
west-bengal-sir-election-commission-ceo-notice

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে ইভিএম কারচুপি ও নির্বাচনী (EVM Tampering) অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর রাজ্য নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। একাধিক বুথে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি এখন আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু নির্দিষ্ট বুথ নয়, প্রয়োজনে পুরো ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন (রিপোল) করা হতে পারে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল এই বিষয়ে(EVM Tampering) কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, “যেখানে যেখানে টেপ পাওয়া গিয়েছে, ওয়েবকাস্টিংয়ে যা দেখা গিয়েছে এবং অবজারভারদের যে রিপোর্ট এসেছে, সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কমিশন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। যদি প্রয়োজন হয়, শুধু নির্দিষ্ট বুথ নয়, যেখানে যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানেই রিপোলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

   

এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যেই অভিযোগ তুলেছে যে একাধিক বুথে ইভিএম ব্যবস্থাপনায় গুরুতর ত্রুটি ও সম্ভাব্য কারচুপি হয়েছে। তাদের দাবি, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং সাধারণ ভোটারদের আস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। (EVM Tampering) অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে। শুধুমাত্র মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রযুক্তিগত প্রমাণ যেমন ওয়েবকাস্টিং ফুটেজ, ইভিএম লগ, এবং পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কমিশনের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কিছু বুথে ‘অতর্কিত অনিয়ম’ বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে বলে খবর। এই ধরনের অভিযোগের পর কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বুথগুলোতে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যাতে জনগণের রায় সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে প্রতিফলিত হয়।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যিই একাধিক বুথে অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে গোটা বিধানসভা কেন্দ্রেই রিপোলের সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ আংশিক পুনর্নির্বাচন অনেক সময় ফলাফলের সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

এদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভোটের মতো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যদি প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক ত্রুটি থেকে যায়, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই তারা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমস্ত রিপোর্ট ও তথ্য যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি কোথাও অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রগুলিতে পুনর্নির্বাচন বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Suparna Parui

হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।

Follow on Google