পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আবহে রাজনৈতিক (Dilip Ghosh) বক্তব্যের ঝাঁজ ক্রমশই বাড়ছে। ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নিজেদের মতো করে পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করছেন এবং ফলাফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে আগে থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কটাক্ষ শোনা গিয়েছিল। তাঁকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে বারবার আক্রমণ করা হয়েছিল। এবার সেই মন্তব্যকেই হাতিয়ার করে পাল্টা কটাক্ষ করলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, “জ্ঞানেশ কুমারকে যারা ভ্যানিশ কুমার বলেছিল, তারাই এখন ভ্যানিশ হয়ে যাওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি স্পষ্টতই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করেছেন এবং আসন্ন ফলাফল নিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসও প্রকাশ করেছেন।
দিলীপ ঘোষ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকেও উচ্চ প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, এবারের ভোট পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, “উনি এবার দুই দফায় ভোট করে খুব বড় চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। শান্তিপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক ভোট করে দেখিয়েছেন।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, বিজেপির তরফে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্টি রয়েছে এবং তারা মনে করছে যে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, (Dilip Ghosh) নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও তিনি ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় আধাসেনা থেকে শুরু করে রাজ্যের পুলিশ সবাই নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে। তাঁর কথায়, “চাইলে প্রশাসন অনেক কিছু করতে পারে।” এই মন্তব্যে প্রশাসনিক সক্ষমতার উপর তাঁর আস্থা স্পষ্ট। তবে তাঁর বক্তব্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো পুলিশের ‘শরীরী ভাষা’ প্রসঙ্গ। দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন, এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের আচরণে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, “পুলিশের শরীরী ভাষা বদলে গিয়েছে।” এই পরিবর্তনকে তিনি আসন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন।
দিলীপ ঘোষের মতে, পুলিশ বাহিনী আসলে সুযোগ পেলে নিজেদের নিরপেক্ষতা এবং দক্ষতা প্রমাণ করতে চায়। তিনি বলেন, “পুলিশ চাইছে সুযোগ দেওয়া হোক। কিছু করে দেখাতে চাইছে।” এই বক্তব্যে তিনি একদিকে যেমন পুলিশ বাহিনীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে তেমনি অতীতের কিছু বিতর্কিত ভূমিকার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন।




















