দ্বিতীয় দফার নির্বাচন শেষ হতেই পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার চিরঞ্জীবপুর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, ভোটপর্ব মিটতেই ওই এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) একটি পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এবং মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি চিরঞ্জীবপুরে তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা চালায়। (TMC) অফিসের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়, পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব সরাসরি বিজেপি কর্মীদের (TMC) দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, ভোটের দিন থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছিল। ভোট শেষ হওয়ার পর সেই উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং পরিকল্পিতভাবেই তাঁদের পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয়। স্থানীয় নেতারা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। তাঁদের দাবি, দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্যদিকে,(TMC) এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে বিজেপি শিবির। গেরুয়া শিবিরের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনও কর্মী বা সমর্থক জড়িত নয়। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভোট-পরবর্তী সময়ে এই ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাঁদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিজেপি নেতারা আরও জানিয়েছেন, এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষে তারা সবসময়ই অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, তৃণমূলই বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি করে পরে অন্যদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।
ঘটনার পরই এলাকায়(TMC) পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। চিরঞ্জীবপুর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ টহল শুরু করেছে যাতে পরিস্থিতি আরও না বিগড়ে যায়। ভাঙচুরের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই কিছু ভিডিও ফুটেজ ও ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই ভিত্তিতে দোষীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, এলাকায় কোনও ধরনের গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত না হয়, সে বিষয়েও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের পর এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। বহু সময়েই ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা সামনে আসে। তবে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
চিরঞ্জীবপুরের (TMC) এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনও বড় ধরনের হতাহতের খবর না থাকলেও রাজনৈতিক উত্তেজনা বজায় রয়েছে। স্থানীয় মানুষজনও এই ঘটনায় আতঙ্কিত। অনেকেই মনে করছেন, দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।




















