ফলতা: গত ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ পর্ব মিটলেও, একাধিক বুথে বেনিয়ম ও ছাপ্পা ভোটের গুরুতর অভিযোগ ওঠায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা আসনে পুনর্নির্বাচন ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই নির্দেশ মেনে আজ, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে শুরু হয়েছে ফলতার ভোটগ্রহণ। বুথগুলির বাইরে সকাল থেকেই লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছেন ভোটাররা। তবে এই ভোটের সবচেয়ে বড় চমক ও টুইস্ট তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে, ফলতা আসনে কার্যত বিজেপির কোনও প্রতিদ্বন্দ্বীই নেই বলা চলে! (repoll started in falta)
ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে উধাও তৃণমূল প্রার্থী!
ফলতার এই পুনর্নির্বাচন ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান আচমকাই ঘোষণা করে দেন যে, তিনি আর এই লড়াইয়ে নেই! তৃণমূল প্রার্থী ভোটের ময়দান থেকে কার্যত নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ায় রাজনৈতিকভাবে এখানে পদ্ম শিবিরের জয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে জাহাঙ্গির খান লড়াই ছাড়লেও, নিয়ম অনুযায়ী ইভিএম (EVM) মেশিনে তাঁর নাম ও জোড়াফুল প্রতীকটি কিন্তু বহাল থাকছে।
ফলতা জুড়ে ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী
২৯ এপ্রিলের গোলমালের ইতিহাস মাথায় রেখে আজ ফলতার সুরক্ষাকে এক্কেবারে নিশ্ছিদ্র করতে কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। গোটা নির্বাচনী ক্ষেত্রে মোতায়েন করা হয়েছে মোট ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি বুথের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে অন্তত এক সেকশন (৮ জন) করে কেন্দ্রীয় জওয়ান। বুথ এবং তার আশপাশের এলাকায় কড়া টহল দিচ্ছে বাহিনী।
শাসক দলের প্রার্থীর ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে এমন ‘রণভঙ্গ’ দেওয়ার ঘটনা এবং বিজেপির একতরফা লড়াইয়ের আবহে ফলতার এই পুনর্নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন নজির তৈরি করল।




















