ঢাকা: বাংলাদেশে হাম আক্রান্ত হয়ে শত শত শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ইউনিসেফ। (Measles Outbreak)ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মহম্মদ ইউনুস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম ইউনিসেফের বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে হামের টিকা সংগ্রহ করেননি।
এর ফলে দেশে হাম বা মেজলসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়। হাজারো শিশু এখনও গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে।রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “এই ঘটনা খুবই হতাশাজনক। আমরা বারবার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিলাম। আমি নুরজাহান বেগমকে বলেছিলাম, ‘ঈশ্বরের দোহাই, এটা করবেন না’। কিন্তু আমাদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছে।” তিনি জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইউনুস সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ বন্ধ করে ওপেন টেন্ডার পদ্ধতিতে যায়।
আরও দেখুনঃ ভিয়েতনামের সঙ্গে ৩০০ মিলিয়নের ঐতিহাসিক ব্রহ্মোস চুক্তির দোরগোড়ায় মোদী সরকার
ইউনিসেফ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিল এবং বলেছিল যে এতে টিকাদান কর্মসূচি বিঘ্নিত হবে ও বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।বাস্তবে তাই হয়েছে। মার্চ মাস থেকে দেশজুড়ে মেজলসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি তথ্য অনুসারে, হাজারের বেশি সন্দেহভাজন মৃত্যুর মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। হাসপাতালগুলোতে শিশুরা ভর্তি হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে।
অনেক পরিবার তাদের ছোট সন্তানকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান। ঢাকার একটি হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, “প্রতিদিন অসংখ্য শিশু আসছে। অনেকের অবস্থা খুবই খারাপ। টিকার অভাব যে এত বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে, তা আমরা ভাবতেও পারিনি।”ইউনিসেফ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের বার্ষিক টিকার চাহিদা প্রায় সাত কোটি ডোজ। কিন্তু ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র এক-তৃতীয়াংশ টিকা সরবরাহ হয়েছে। ফলে শূন্য ডোজ (যাদের কোনো টিকাই দেওয়া হয়নি) এবং আংশিক টিকাপ্রাপ্ত শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষ করে পাঁচ বছরের নিচের শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে।এই ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেক অভিভাবক প্রশ্ন তুলছেন, কেন বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও টিকা সংগ্রহে অবহেলা করা হলো? স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা সংগ্রহের পদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ছিল তাড়াহুড়ো এবং ঝুঁকিপূর্ণ। ইউনিসেফের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার পরামর্শ না মানায় এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে অনেকে মনে করেন।




















