নয়াদিল্লি:ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। (Ghatak UCAV)দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক স্টেলথ ড্রোন ‘ঘাতক’ এখন বাস্তবের মাটিতে নামার অপেক্ষায়। DRDO র এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প ভবিষ্যতের যুদ্ধনীতিকে আমূল বদলে দিতে পারে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
‘ঘাতক’ আসলে একটি আনম্যানড কমব্যাট এরিয়াল ভেহিকল (UCAV), যা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শত্রু ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল স্টেলথ প্রযুক্তি অর্থাৎ রাডারে ধরা পড়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। ফলে শত্রুপক্ষের কড়া নিরাপত্তা বলয় ভেঙে গভীর এলাকায় ঢুকে আঘাত হানতে পারবে এই ড্রোন।
আরও দেখুনঃ এবার ডিম নিয়ে কড়া নির্দেশ উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারের
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের চেহারা দ্রুত বদলাচ্ছে। এখন শুধু মানবচালিত যুদ্ধবিমান নয়, বরং স্বয়ংক্রিয় এবং নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক অস্ত্র ব্যবস্থাই ভবিষ্যতের মূল শক্তি। সেই জায়গাতেই ‘ঘাতক’ একটি বড় পদক্ষেপ। এটি শুধু এককভাবে আক্রমণ চালাতে পারবে না, বরং একাধিক ড্রোন বা মানবচালিত যুদ্ধবিমানের সঙ্গে সমন্বয় করেও অভিযান চালাতে সক্ষম।
বিশেষ করে ভারতের ভবিষ্যৎ স্টেলথ ফাইটার প্রকল্পের সঙ্গে ‘ঘাতক’-এর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ‘লয়াল উইংম্যান’ হিসেবে এই ড্রোন যুদ্ধবিমানের পাশে থেকে শত্রু অবস্থান শনাক্ত করবে, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করবে এবং প্রয়োজনে আক্রমণেও অংশ নেবে। এতে পাইলটের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে এবং যুদ্ধের কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়বে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ‘ঘাতক’ যথেষ্ট উন্নত। এতে ব্যবহৃত হয়েছে দেশীয়ভাবে তৈরি একটি টার্বোফ্যান ইঞ্জিন, যা দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে থাকার ক্ষমতা দেয়। ফলে দীর্ঘ দূরত্বে অভিযান চালানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে উন্নত সেন্সর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-ভিত্তিক সিস্টেমের সাহায্যে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে যা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে বড় খবর হল, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্রয় বোর্ড ইতিমধ্যেই ৬০টি ‘ঘাতক’ UCAV কেনার অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। প্রতিরক্ষা মহলের মতে, এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং ভারতের সামরিক শক্তির বড় রূপান্তরের সূচনা।
কৌশলগত দিক থেকেও ‘ঘাতক’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভারতের জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করবে, যা সম্ভাব্য শত্রুদের কাছে স্পষ্ট বার্তা দেবে। সীমান্তে উত্তেজনা বাড়লে বা যুদ্ধে জড়ালে, এই ধরনের স্টেলথ ড্রোন শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি, রাডার স্টেশন বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দ্রুত নিষ্ক্রিয় করতে পারবে। একই সঙ্গে এটি গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেবে। ফলে ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের অংশগ্রহণ কমে গিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধই প্রধান হয়ে উঠবে এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



















