লখনউ: উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরে ডিজেল চোরচক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের সফল অভিযান। (Shehzad)কালী নদীর সেতুর কাছে চেকিংয়ের সময় চোরচক্রের সদস্যরা পুলিশের উপর গুলি চালায়। পুলিশ পালটা গুলি চালালে অভিযুক্ত শেহজাদ আহত হয় এবং গ্রেফতার হয়। তার সঙ্গী আসিফ পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ উদ্ধার করেছে ১২০ লিটার চোরাই ডিজেল, একটি পিস্তল এবং একটি সুইফট ডিজায়ার গাড়ি।
ঘটনাটি ঘটেছে মুজাফফরনগর জেলায় কালী নদীর সেতুর কাছে। পুলিশের একটি টিম রাতের অন্ধকারে সন্দেহজনক গাড়ি চেক করতে গেলে চোরচক্রের সদস্যরা হঠাৎ গুলি চালাতে শুরু করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশও আত্মরক্ষায় পালটা গুলি চালায়। এতে শেহজাদ নামে এক অভিযুক্ত গুরুতর আহত হয়। পুলিশ তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং পরে গ্রেফতার দেখায়।
আরও দেখুনঃ স্বপ্নের সূচনা ! ঘরের মাঠে জিতে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু মেক্সিকোর
তার সঙ্গী আসিফ অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ তার খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ উদ্ধার করা ১২০ লিটার চোরাই ডিজেল, একটি দেশীয় পিস্তল এবং একটি সাদা সুইফট ডিজায়ার গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশের অনুমান, এই গাড়িটি চোরাই তেল পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হতো। শেহজাদের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ট্রাক ও ট্যাঙ্কার থেকে ডিজেল চুরি করে বিক্রি করে আসছিল।
চোরাই তেলের একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের সরকার আসার পর আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অবৈধ বালি মাফিয়া, গরু চোরাচালান ও জ্বালানি চোরচক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। মুজাফফরনগর পুলিশের এই অভিযানকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, শেহজাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো চক্রের সন্ধান করা হবে।স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অনেকে বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জ্বালানি চুরির ঘটনা বেড়ে গিয়েছিল। ট্রাক চালকরা প্রায়ই অভিযোগ করতেন যে রাতের অন্ধকারে তাদের ট্যাঙ্ক থেকে ডিজেল চুরি হয়ে যাচ্ছে। চোরচক্রের কারণে সাধারণ মানুষেরও সমস্যা হচ্ছিল।
পুলিশের এই অভিযান তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা গাড়ি ও ডিজেলের মূল্য প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা। চোরাই তেল বিক্রির টাকায় শেহজাদ ও তার সঙ্গীরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিল বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও অনেক তথ্য উঠে আসতে পারে।



















