২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে (FIFA World Cup 2026)। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার সমর্থক নিজেদের প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে যুক্তরাষ্ট্রে ছুটে এসেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপের আবহের মধ্যেই এক বড় সমস্যা সামনে এসেছে—অতিরিক্ত যাতায়াত খরচ। বিশ্বকাপের মতো বিশাল আয়োজনের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই পরিবহণ, হোটেল এবং অন্যান্য পরিষেবার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সাধারণ সমর্থকদের উপর।
বিশেষ করে নিউ ইয়র্ক এবং তার আশপাশের অঞ্চলে ম্যাচ দেখতে যাওয়া দর্শকদের যাতায়াত ব্যয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক সমর্থকের অভিযোগ, সাধারণ সময়ে যে দূরত্ব অল্প খরচে অতিক্রম করা যায়, বিশ্বকাপ চলাকালীন সেই একই যাত্রার জন্য কয়েকগুণ বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। ফলে বহু ফুটবলপ্রেমী আর্থিক চাপে পড়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে জার্মানি জাতীয় ফুটবল দল। ২৫ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে খেলবে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। নিউ ইয়র্ক শহরের কেন্দ্র থেকে স্টেডিয়ামে পৌঁছতে সাধারণ সমর্থকদের যথেষ্ট অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশ্বকাপের কারণে পরিবহণ খরচ এতটাই বেড়েছে যে অনেকের পক্ষেই ম্যাচ দেখতে যাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমর্থকদের এই সমস্যার কথা মাথায় রেখে জার্মান ফুটবল ফেডারেশন বিশেষ শাটল বাস পরিষেবার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পরিষেবার মাধ্যমে প্রায় চার হাজার সমর্থককে নিউ ইয়র্ক শহর থেকে সরাসরি স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হবে। এর ফলে সমর্থকদের যাতায়াত ব্যয় অনেকটাই কমবে এবং তাঁরা স্বস্তিতে খেলা দেখতে যেতে পারবেন।
তবে এই সুযোগ সবাই একসঙ্গে পাবেন না। আগ্রহী সমর্থকদের আগে জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে হবে। যদি আবেদনকারীর সংখ্যা চার হাজারের বেশি হয়, তাহলে লটারির মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ পদ্ধতিতে এই সুবিধা বণ্টন করা হবে।
এই উদ্যোগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, এর পিছনে রয়েছে জার্মান দলের ফুটবলারদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা। দলের অধিনায়ক জোশুয়া কিমিচ, কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান এবং আরও কয়েকজন ফুটবলার সমর্থকদের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন। তাঁদের উদ্যোগেই প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা হয় এবং সেই অর্থের সাহায্যে শাটল বাস পরিষেবার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে। ফুটবলারদের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে তাঁরা শুধু মাঠের সাফল্য নিয়েই ভাবেন না, বরং সমর্থকদের স্বার্থ ও সুবিধার কথাও সমানভাবে গুরুত্ব দেন।
উল্লেখ্য, ইউরোপে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের সময় অনেক ক্ষেত্রেই দর্শকদের গণপরিবহণে বিশেষ ছাড় বা বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে গত ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে জার্মানি আয়োজক দেশ হিসেবে সমর্থকদের জন্য এমন সুবিধা চালু করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে সেই ধরনের ব্যবস্থা না থাকায় দর্শকদের বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে।
এই অবস্থায় জার্মান দলের উদ্যোগ বিশ্ব ফুটবলে এক অনন্য নজির তৈরি করেছে। সমর্থকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁরা দেখিয়ে দিয়েছেন, ফুটবল কেবল মাঠের খেলা নয়, বরং খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে গভীর সম্পর্কেরও নাম। জার্মান দলের এই মানবিক উদ্যোগ ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।



















