জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকের ফাটাপুকুরে তৈরি বিশেষ হোল্ডিং সেন্টারে বর্তমানে ২৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে রাখা হয়েছে (Rajganj)। রাজ্যজুড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের মধ্যেই তাঁদের এখানে আনা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর এলাকা থেকে বাসে করে এই ব্যক্তিদের ফাটাপুকুরে নিয়ে আসা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ জন মহিলা এবং ৭ জন শিশু রয়েছে, ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি মানবাধিকার ও নিরাপত্তা দুই দিকেই নজর রাখা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, আটক হওয়া ব্যক্তিরা প্রায় তিন থেকে চার বছর আগে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর তাঁরা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমজীবী পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বসবাস করছিলেন। কেউ রিকশা চালাতেন, কেউ নির্মাণক্ষেত্রে রংমিস্ত্রির কাজ করতেন, আবার কেউ দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করলেও সাম্প্রতিক অভিযানে তাঁদের চিহ্নিত করে আটক করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
আরও দেখুনঃ পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন, জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার
ফাটাপুকুরে তৈরি হোল্ডিং সেন্টারটিকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে। পুরো এলাকাটি উঁচু টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে যাতে বাইরের কেউ সহজে প্রবেশ করতে না পারেন এবং ভেতরে থাকা ব্যক্তিরাও অনুমতি ছাড়া বাইরে যেতে না পারেন। পাশাপাশি সেন্টারের চারপাশে এবং ভেতরে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। প্রতিটি গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে নিয়মিত।
প্রশাসন জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মৌলিক প্রয়োজনের বিষয়েও ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্যাম্পের মধ্যেই তাঁদের থাকার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা, খাবারের ব্যবস্থা এবং শৌচাগারের সুবিধা রাখা হয়েছে। শিশু ও মহিলাদের কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় পরিষেবাও নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে, তবে আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা এই হোল্ডিং সেন্টারেই থাকবেন বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে সেন্টারে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ, সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার এবং গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে সূত্রের খবর, সমস্ত নথিপত্র ও পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। এরপর আন্তর্জাতিক ও আইনি নিয়ম মেনে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সামগ্রিকভাবে, রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর হোল্ডিং সেন্টার এখন প্রশাসনিক তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সমন্বিত পদক্ষেপের মধ্যেই এই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।


















