কলকাতা: দলের অন্দরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই, সমস্ত সিদ্ধান্ত হয় এক জায়গা থেকে! এবার সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বর্মা বাসুনিয়া। বর্তমানে দলের ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীর অন্যতম মুখ তিনি। এক সাক্ষাৎকারে দলের সাংগঠনিক কাঠামো, প্রবীণদের প্রতি বঞ্চনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর মন্তব্যে ঘাসফুল শিবিরে বড়সড় ভাঙনের জল্পনা উসকে উঠেছে।
মহুয়া মৈত্রকে নিয়ে জল্পনা
দলের আরেক দাপুটে নেত্রী মহুয়া মৈত্র কি এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়তে পারেন? এই প্রশ্নের সরাসরি কোনও উত্তর না দিলেও জল্পনা জিইয়ে রেখেছেন বাসুনিয়া। তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, “রাজনীতিতে কিছুই অসম্ভব নয়।” তিনি মনে করিয়ে দেন, অতীতে মহুয়াও মমতা এবং অভিষেকের সমালোচনা করেছিলেন।
নিশানায় অভিষেক ও শীর্ষ নেতৃত্ব
দলের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতির জন্য সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই আঙুল তুলেছেন বাসুনিয়া। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দলের ভেতরে ক্ষোভ জমছিল, যা এখন চরম আকার নিয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও স্থানীয় বা প্রবীণ নেতাদের কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয় না। খোদ কোচবিহারের সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও তিনি জানতেন না তাঁর এলাকায় দলের প্রার্থী কারা হচ্ছেন!
স্পিকারের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা
সাংসদ জানিয়েছেন, তৃণমূলের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী লোকসভার স্পিকারের কাছে গিয়ে সংসদে একটি পৃথক ও স্বতন্ত্র গ্রুপ হিসেবে বসার অনুমতি চাইবে। তাঁর দাবি, সম্প্রতি সুখেন্দু শেখর রায়ের ইস্তফার দিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে ১৪ জন বিদ্রোহী সাংসদ বৈঠক করেছিলেন। পরে সেখানে সায়নী ঘোষও যোগ দেন। সংসদে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বা শতাব্দী রায়ের মতো প্রবীণ কাউকে দেখা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
কীর্তি আজাদকে কড়া জবাব
সম্প্রতি তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ অভিযোগ করেছিলেন যে, মোটা টাকার বিনিময়েই নাকি বিদ্রোহী সাংসদরা অবস্থান বদলাচ্ছেন। এর কড়া জবাবে বাসুনিয়া বলেন, কীর্তি আজাদ বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে একেবারেই অবগত নন। বর্তমানে বাংলার বহু জায়গায় তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
২০১৯ সালে হিংসার কারণে তিন মাস বাড়িছাড়া থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রীর থেকে কোনও সাহায্য পাননি বলে নিজের পুরনো ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন বাসুনিয়া। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দলের বিরুদ্ধে এমন ‘বিদ্রোহী’ অবস্থান নেওয়ার পরেও মমতা বা অভিষেকের তরফে মানভঞ্জনের জন্য তাঁর কাছে কোনও ফোন আসেনি।



















