নয়াদিল্লি: তৃণমূল যখন ভেঙে খান খান। (Shatrughan Sinha)এই আবহেই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই থাকবেন। বিজেপিতে প্রায় ত্রিশ বছর কাটানোর পরও মমতার নেতৃত্বকেই তিনি সবচেয়ে ভালো মনে করছেন। কোনো নাম না নিয়ে তিনি বলেছেন, “আমি কারও নাম নেব না। বিজেপিতে আমি প্রায় ত্রিশ বছর ছিলাম। দলের খুব সিনিয়র নেতারা আমাকে তৈরি করেছেন। তাঁরা যদি আমার জন্য কিছু বলে থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই ভালো উদ্দেশ্যেই বলেছেন।
কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে ভালো হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা।”শত্রুঘ্ন সিনহা আরও বলেন, “আমি সবসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকব। এমনকি আমি একা হয়ে গেলেও ‘একলা চলো’ বলে তাঁর সঙ্গেই থাকব। বর্তমানে আমার কোথাও যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।” তাঁর এই মন্তব্য রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।বিজেপির দীর্ঘদিনের নেতা থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর শত্রুঘ্ন সিনহা প্রায়ই তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন। এবারও তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
আরও দেখুনঃ AMCA তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ভারতের জন্য গেম-চেঞ্জার সুখোই-৫৭, সরবরাহ করতে পারবেন পুতিন?
বিজেপির সিনিয়র নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের যেকোনো পরামর্শ ভালো উদ্দেশ্যেই দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলো মমতার পাশে থাকা।রাজনৈতিক মহলে এই বক্তব্যকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য জোরদার করার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। শত্রুঘ্ন সিনহা যেভাবে ‘একলা চলো’র উল্লেখ করেছেন, তা রবীন্দ্রনাথের গানের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা এবং রাজনৈতিক লড়াইয়ে একা থাকার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।
তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, দল বা ব্যক্তিগত চাপ যাই আসুক, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শ থেকে সরবেন না।শত্রুঘ্ন সিনহা অভিনয় জগৎ থেকে রাজনীতিতে এসেছিলেন। বিজেপিতে থাকাকালীন তিনি দলের হয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেন। তাঁর এই সাম্প্রতিক মন্তব্যকে অনেকে তৃণমূলের সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রেক্ষিতে দেখছেন।
তবে শত্রুঘ্ন সিনহা নিজে কোনো অসন্তোষ প্রকাশ করেননি, বরং মমতার প্রতি আনুগত্যই স্পষ্ট করেছেন।তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে। দলের একাধিক নেতা বলেছেন, শত্রুঘ্ন সিনহার মতো অভিজ্ঞ এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের সমর্থন দলকে আরও শক্তিশালী করবে।
অন্যদিকে বিজেপি শিবির থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে কিছু নেতা ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন, শত্রুঘ্ন সিনহা এখনও পুরনো দলের প্রতি শ্রদ্ধা রাখছেন, যা ইতিবাচক।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শত্রুঘ্ন সিনহার এই ঘোষণা আসন্ন নির্বাচনী প্রস্তুতিতে তৃণমূলের জন্য ইতিবাচক বার্তা। বিশেষ করে যেসব নেতা দল ছেড়ে যাওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তাঁদের কাছে এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকলে একা হয়েও লড়াই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।



















