নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। (Election Commission)তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সাগরিকা ঘোষ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, রাতের অন্ধকারে সকাল ৪টায় বাংলার হোম সেক্রেটারি এবং চিফ সেক্রেটারিকে বদলি করার পদ্ধতি একদম অগ্রাহ্য। এটি মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষতি করার জন্য কমিশনের ক্ষমতার অপব্যবহার।
সাগরিকা ঘোষের কথায়, নির্বাচন কমিশনের এখন এই ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু তারা সেটাকে অপব্যবহার করছে। এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল সংসদে প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনও এই বিষয় তুলেছেন, এবং প্রতিবাদস্বরূপ অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস পুরো দিনের জন্য সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে।
আরও দেখুনঃ ‘একরাতের এত রদবদলে বাংলা হাতছাড়া হবে বিজেপির!’ মত সৌগতর
নির্বাচন কমিশন গতকাল ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করেছে। দু’দফায় ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল হবে ভোটগ্রহণ, গণনা ৪ মে। এর ঠিক পরেই রাতে ইসি রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক অফিসারদের বদলির নির্দেশ দিয়েছে। ডিজিপি এবং স্বরাষ্ট্রসচিব পদে বদলি হয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা রক্ষার জন্য বলে কমিশনের দাবি। কিন্তু তৃণমূলের নেতারা এটাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দেখছেন।
সাগরিকা ঘোষ, যিনি রাজ্যসভার সাংসদ এবং সাংবাদিকতা থেকে রাজনীতিতে এসেছেন, এই বিষয়ে সোচ্চার। তাঁর মতে, এমন রাতের অন্ধকারে বদলি করা যেন সরকারকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত।সংসদে এই প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহল উত্তপ্ত। তৃণমূলের ওয়াকআউটকে অনেকে দলের শক্ত অবস্থানের প্রতীক বলে মনে করছেন। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এই বিষয় তুলে বলেছেন যে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর ফলে সংসদের কার্যকলাপ ব্যাহত হয়েছে। বিরোধী দল বিজেপি এবং অন্যরা এই প্রতিবাদকে ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য জরুরি, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে অতীতের নির্বাচন কেন্দ্রিক হিংসার ইতিহাস বিবেচনা করে। ২০২১-এর নির্বাচনে পোস্ট-পোল ভায়োলেন্স নিয়ে অনেক অভিযোগ উঠেছিল, যা কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে।



















