Ghost Particle: এই মুহূর্তে, স্মার্টফোন হাতে নিয়ে আপনি যখন এই খবরটি পড়ছেন, তখন কোটি কোটি অদৃশ্য ও ভৌতিক শক্তি আপনার মাথা, হাত, পা এবং পুরো শরীরের মধ্য দিয়ে অনবরত ছুটে চলেছে! চমকে উঠবেন না; এটি কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়, বরং এমন এক বাস্তবতা যা এমনকি বিজ্ঞানীদেরও বিস্মিত করেছে।
বিজ্ঞানের জগতে চিন এক বড় সাফল্য অর্জন করেছে; তারা তাদের ভূগর্ভস্থ গবেষণাগারে রহস্যময় নিউট্রিনো—যা প্রায়শই ‘ঘোস্ট পার্টিকেল’ বা ‘ভূতুড়ে কণা’ নামে অভিহিত করা হয়—ধরে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। ভূপৃষ্ঠের ৬৫০ মিটার গভীরে ঘটা এই বিশাল ঘটনাটি বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। আসলে কী এই ‘ভূতুড়ে কণা’, যা প্রতিনিয়ত আপনার সংস্পর্শে আসছে? আসুন, তা জেনে নেওয়া যাক।
ভারতের প্রতিবেশী দেশ চীনের গুয়াংডং প্রদেশে মাটির ৬৫০ মিটার গভীরে অবস্থিত ‘জিয়াংমেন আন্ডারগ্রাউন্ড নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ এই প্রচেষ্টায় সাফল্য অর্জন করেছে। ‘নেচার’ (Nature) পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, ডিটেক্টরটি চালু হওয়ার প্রথম ৫৯ দিনে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা নিউট্রিনোর আচরণ সম্পর্কে এই সময়ের সবচেয়ে নির্ভুল পরিমাপ পেয়েছেন।
এই ‘ভূতকণা’ বা ‘ঘোস্ট পার্টিকেল’গুলো কী?
নিউট্রিনো হলো মহাবিশ্বের অন্যতম মৌলিক কণা, অথচ এদের সম্পর্কে বোঝা মোটেও সহজ কাজ নয়। এদের প্রায়শই ‘ভূতকণা’ বলা হয় কারণ এরা কঠিন পদার্থের মধ্য দিয়েও অনায়াসে বেরিয়ে যেতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, প্রতি সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন নিউট্রিনো আমাদের শরীরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে; অথচ আমরা এ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ থাকি, কারণ সাধারণ পদার্থের সাথে এদের কোনো মিথস্ক্রিয়া ঘটে না। সূর্য, নক্ষত্রের বিস্ফোরণ এবং মহাজাগতিক অন্যান্য বড় ঘটনা থেকে এই কণাগুলোর উৎপত্তি ঘটে।
বিজ্ঞানের এই তিনটি বড় রহস্যের ওপর থেকে পর্দা সরে যাবে
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, নিউট্রিনোর আচরণ পুরোপুরি বোঝার মাধ্যমে আমরা বিজ্ঞানের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পেতে পারি—
- মহাবিশ্বে পদার্থ ও প্রতি-পদার্থের (anti-matter) মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে স্থাপিত হয়েছিল?
- ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি সম্পর্কে আসল সত্যটা কী?
- যখন একটি নক্ষত্র বিস্ফোরিত হয়, তখন এর ভেতরে আসলে কী ঘটে?
বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত রয়েছেন, যা ৩০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডুন’ (DUNE) ও জাপানের ‘হাইপার-কামিওকান্দে’ (Hyper-Kamiokande) প্রকল্পের পাশাপাশি চীনের ‘জুনো’ (JUNO) প্রকল্পটিও আগামী দিনগুলোতে মহাকাশ বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে চলেছে।



















