নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্ট ভারতীয় নারী সমাজের অদৃশ্য অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে এক ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ করেছে(Supreme Court)। আদালত বলেছে, যে নারীরা সংসার চালান, তাদের আর শুধুমাত্র ‘গৃহিণী’ (Homemaker) বলা উচিত নয়, বরং তাদের বলা উচিত ‘জাতি গড়ার কারিগর’ বা ‘Nation Makers’। আদালতের মতে, তাদের অবদান ঘরের কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় তারা পরিবার গড়ে তোলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে লালন-পালন করেন এবং দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ এসেছে সড়ক দুর্ঘটনায় গৃহিণীর মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ মামলায়। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের সময় গৃহিণীর অবৈতনিক ঘরের কাজের মূল্য ন্যূনতম মাসিক ৩০,০০০ টাকা ধরে হিসাব করতে হবে। বিচারপতিরা বলেছেন, আধুনিক সমাজে এখনও অনেক নারীর অবদানকে ‘অদৃশ্য’ করে রাখা হয়।
আরও দেখুনঃ ‘অদৃশ্য ভৌতিক শক্তি’ কী, যা ঠিক এই মুহূর্তেও আপনার গা ঘেঁষে চলে যাচ্ছে?
কিন্তু বাস্তবে একজন গৃহিণী যে শ্রম দেন, তার অর্থনৈতিক মূল্য অপরিসীম।এই মামলায় আদালত লক্ষ্য করেছে যে, একজন গৃহিণী শুধু রান্না, ঘর পরিষ্কার বা সন্তানের দেখাশোনাই করেন না। তিনি পরিবারের সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেন, তাদের শিক্ষা ও নৈতিকতার ভিত গড়ে তোলেন, অর্থ সাশ্রয় করেন এবং সংসারকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন। এই সব কাজ যদি বাইরের কোনো ব্যক্তিকে দিয়ে করানো হয়, তাহলে তার খরচ অনেক বেশি হয়।
তাই ক্ষতিপূরণের হিসাবে এই অবদানকে আর্থিক মূল্য দিতে হবে।সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে নারী অধিকার কর্মীরা স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, এতদিন গৃহিণীদের শ্রমকে ‘ফ্রি লেবার’ হিসেবে দেখা হতো। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবার খুব কম ক্ষতিপূরণ পেত। নতুন এই নির্দেশিকা সেই অন্যায়ের অবসান ঘটাবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে অধিকাংশ নারী গৃহিণী হিসেবেই জীবন কাটান, সেখানে এই রায় বড় প্রভাব ফেলবে।
আদালত আরও বলেছে, নারীর এই অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া শুধু ক্ষতিপূরণের জন্য নয়, সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর জন্যও জরুরি। একজন নারী যখন সংসার সামলান, তখন তিনি পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখেন। কারণ সুস্থ, শিক্ষিত ও সুখী পরিবারই একটি শক্তিশালী জাতি গড়ে তোলে। তাই ‘Homemaker’ শব্দটির পরিবর্তে ‘Nation Maker’ শব্দ ব্যবহার করা উচিত।
রায়টি প্রকাশিত হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক নারী তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেছেন, এতদিন তাঁদের কাজকে ‘শুধু ঘরের কাজ’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হতো। আজ আদালত সেই কাজের মর্যাদা দিয়েছে। বিভিন্ন নারী সংগঠন এই রায়কে নারী ক্ষমতায়নের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ বলে অভিনন্দন জানিয়েছে।



















