Aadhaar Fraud Alert: বর্তমানে প্রায় প্রতিটি জরুরি কাজের জন্যই আধার ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে, আধার-সংক্রান্ত জালিয়াতির ঘটনাও দ্রুত বাড়ছে। অনেক প্রতারক মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে আধারের তথ্যের অপব্যবহার করছে। যেহেতু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, প্যান কার্ড এবং মোবাইল নম্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলো আধারের সাথে যুক্ত, তাই আধার কার্ড সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
আধার হলো ভারত সরকারের দেওয়া ১২-সংখ্যার একটি অনন্য শনাক্তকরণ নম্বর। এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিচয়পত্র। ব্যাংকিং, অনলাইন লেনদেন এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার মতো বিভিন্ন কাজের জন্য আধার কার্ড অপরিহার্য। এতে কার্ডধারীর ব্যক্তিগত ও বায়োমেট্রিক তথ্য থাকে।
আধার কার্ড ছাড়া ব্যাংকিং, মোবাইল সংযোগ, সম্পত্তির নথিপত্র এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা কঠিন হতে পারে। যেহেতু এটি আপনার বায়োমেট্রিক ও ব্যক্তিগত তথ্যের সাথে যুক্ত, তাই এর নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার সামান্য একটি ভুলের সুযোগ নিয়ে সাইবার প্রতারকরা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে পারে। তাই, কীভাবে আপনার আধার কার্ড সুরক্ষিত রাখবেন, তা জানা জরুরি। UIDAI-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে আঙুলের ছাপ ও আইরিস স্ক্যানের মতো আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য লক করার মাধ্যমে আপনি এটি করতে পারেন। বায়োমেট্রিক লক চালু করা হলে, কেউ আর AePS (আধার-ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম)-এর মাধ্যমে লেনদেন করার জন্য আপনার আধার ব্যবহার করতে পারবে না; ফলে জালিয়াতির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
আপনার আধার লক বা আনলক করতে আপনি UIDAI-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে পারেন। ‘My Aadhaar’ বিভাগে যান এবং ‘Aadhaar Services’ বিকল্পটি নির্বাচন করুন। সেখানে আপনি ‘Lock/Unlock Aadhaar’ লিঙ্কটি পাবেন, যার মাধ্যমে আপনি যেকোনো সময় ও যেকোনো জায়গা থেকে আপনার আধার লক বা আনলক করতে পারবেন।
এটি করার জন্য, প্রথমে UIDAI-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান। হোমপেজে ‘My Aadhaar’ বিভাগে গিয়ে ‘Aadhaar Services’ নির্বাচন করুন। এরপর, ‘Lock/Unlock Biometrics’ অপশনটিতে ক্লিক করুন। এখন আপনার ১২-সংখ্যার আধার নম্বর এবং স্ক্রিনে প্রদর্শিত ক্যাপচা (captcha) লিখুন, তারপর একটি OTP জেনারেট করুন। আপনি আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে OTP-টি পাবেন।
ওটিপি (OTP) দেওয়ার পর আপনার পছন্দমতো একটি পাসওয়ার্ড সেট করুন। এরপর ‘Enable Biometric Locking’-এর পাশের বক্সে টিক দিন এবং ‘Enable’ বোতামে ক্লিক করুন। এর ফলে আপনার আধার বায়োমেট্রিক তথ্য লক হয়ে যাবে। বায়োমেট্রিকস লক করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনার অনুমতি ছাড়া কেউ আপনার আধার ব্যবহার করে আপনার পরিচয় যাচাই করতে পারবে না। এর ফলে আপনার তথ্যের অপব্যবহারের আশঙ্কা কার্যত দূর হয়ে যায়।
সোশ্যাল মিডিয়া বা অনিরাপদ প্ল্যাটফর্মে আধার কার্ডের তথ্য শেয়ার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আধার কার্ডের ছবি বা তাতে থাকা তথ্য যদি প্রকাশ্যে চলে আসে, তবে জালিয়াতির ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই, আধার-সংক্রান্ত তথ্য কখনোই কোনো পাবলিক প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা উচিত নয়।
এ ছাড়াও, যেখানেই সম্ভব ‘মাস্কড আধার’ (masked Aadhaar) ব্যবহার করা শ্রেয় বলে মনে করা হয়। মাস্কড আধারে আধার নম্বরের প্রথম আটটি সংখ্যা “XXXX-XXXX” হিসেবে গোপন রাখা হয় এবং শুধুমাত্র শেষ চারটি সংখ্যা দৃশ্যমান থাকে। এর ফলে আপনার পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য অধিকতর সুরক্ষিত থাকে এবং অপব্যবহারের ঝুঁকি কমে।



















