গত দেড় বছর ধরেই আনোয়ার আলিকে নিয়ে সরগরম ভারতীয় ফুটবল মহল। গত সিজন থেকেই কলকাতা ময়দানের অন্যতম প্রধান তথা ইস্টবেঙ্গল দলের হয়ে খেললেও পূর্বে মোহনবাগান (Mohun Bagan) সুপার জায়ান্টের হয়ে অনবদ্য পারফরম্যান্স ছিল এই ফুটবলারের। দুরন্ত পারফরম্যান্স করার পাশাপাশি দলকে ট্রফি জেতানোর ক্ষেত্রে ও সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল এই তারকা সেন্টার ব্যাকের। কিন্তু কিছু মাস আগে বদলে গিয়েছিল গোটা চিত্রটি। লোন ডিলের পরিবর্তে ক্লাবের কাছে স্থায়ী চুক্তি চেয়েছিলেন জাতীয় দলের এই সেন্টার ব্যাক। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। যারফলে , শেষ পর্যন্ত বড় চুক্তিতে তাঁকে দলে টেনে নেয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব ইস্টবেঙ্গলে। এই ট্রান্সফার নিঃসন্দেহে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল দেশের সকল ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে।
কিন্তু এত সহজে খেলোয়াড় ছাড়তে রাজি ছিলনা সবুজ-মেরুন। পরবর্তীতে তাঁকে ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে নামে বাগান ব্রিগেড। যারফলে ক্রমশ জটিল হয়ে উঠতে শুরু করেছিল গোটা পরিস্থিতি। পরবর্তীতে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের প্লেয়ার স্ট্যাটাস কমিটির আওতায় চলে গিয়েছিল এই দল বদলের ইস্যু। পূর্বে সেই নিয়ে তাঁদের তরফে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হলেও সেই নিয়ে খুব একটা খুশি থাকেনি পড়শী ক্লাব ইস্টবেঙ্গল। যারফলে সেই সময় দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল লাল-হলুদ ম্যানেজমেন্টকে। সেখানেই খতিয়ে দেখা হয়েছিল গোটা বিষয়টি। তারপর আদালতের তরফে পিএসসির তরফে পূর্বে জারি করা সমস্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করে গোটা বিষয়টি শুরু থেকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সেই সুবাদেই নো অবজেকশন সার্টিফিকেট পেয়েছিলেন আনোয়ার আলি। যারফলে লাল-হলুদ জার্সিতে খেলতে পারছিলেন এই তারকা ফুটবলার। পরবর্তীতে শুনানির দিনক্ষণ ধার্য করা হলেও দেখা দিয়েছিল একাধিক সমস্যা। বর্তমানে অনেকটাই বদলেছে সেই গতিপথ। গত সেপ্টেম্বর মাসে আনোয়ার আলি ইস্যুর শুনানির দিনক্ষণ নিয়ে ফেডারেশনের কাছে আবেদন জানিয়েছিল মোহনবাগান। তারপর ও ঘটে গিয়েছে অনেক কিছু। অনেকদূর জল গড়ালে ও এখন সদুত্তর মেলেনি। এমন পরিস্থিতিতে এবার আনোয়ার আলিকে নিয়ে নয়া পদক্ষেপ নিল সবুজ-মেরুন শিবির। এবার সিএসএসের দ্বারস্থ হল ময়দানের এই প্রধান। বলাবাহুল্য, গত কয়েক মাস আগেই গোটা বিষয়টি উল্লেখ করে ফিফায় চিঠি দিয়েছিল মেরিনার্সরা। বিশ্ব ফুটবল সংস্থাকে প্রায় ছয় পাতার একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল তাঁদের তরফে। এই ইস্যুতে আরও একবার সরগরম হয়ে উঠল ময়দান।




















