বিশ্বব্যাপী ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে, জানুন প্রতিরোধের সহজ উপায়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর নতুন একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্রেস্ট ক্যান্সারের রোগ নির্ণয় এবং মৃত্যুহার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা (IARC) এবং তাদের সহযোগীরা বিশ্বব্যাপী ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
worldwide-breast-cancer-risk-increasing-know-simple-prevention-ways

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর নতুন একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্রেস্ট ক্যান্সারের রোগ নির্ণয় এবং মৃত্যুহার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা (IARC) এবং তাদের সহযোগীরা বিশ্বব্যাপী ব্রেস্ট ক্যান্সারের বর্তমান এবং ভবিষ্যত পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন।

ন্যাচার মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, গড়ে প্রতি ২০ জন নারীর মধ্যে একজন জীবদ্দশায় ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হবে। যদি বর্তমান হার অব্যাহত থাকে, তবে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি বছর ৩.২ মিলিয়ন নতুন কেস এবং ১.১ মিলিয়ন ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটবে।

   

IARC-এর বিজ্ঞানী ড. জোয়ান কিম বলেন, “প্রতি মিনিটে বিশ্বব্যাপী চারজন নারী ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং একজন নারী মারা যান, এবং এই পরিসংখ্যান দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।”

ব্রেস্ট ক্যান্সারের বৈশ্বিক বোঝা:

WHO-এর মতে, ব্রেস্ট ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সার এবং সারা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক সাধারণ ক্যান্সার। ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৩ লাখ নতুন ব্রেস্ট ক্যান্সারের কেস এবং ৬৭০,০০০ ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ক্যান্সার কেস এবং মৃত্যুহার ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে ঘটে, যারা নতুন কেসের ৭১% এবং মৃত্যুর ৭৯% এর জন্য দায়ী।

ব্রেস্ট ক্যান্সার সনাক্তকরণ:

ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রাথমিক সনাক্তকরণ রোগীদের উন্নত চিকিৎসা এবং বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এর ফলে ক্যান্সার দ্রুত সনাক্ত হয়ে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়।

ব্রেস্ট ক্যান্সারের নির্ণয়ে কয়েকটি পদ্ধতির সংমিশ্রণ ব্যবহৃত হয়:

১. ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা: চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা করে ক্যান্সারের লক্ষণ এবং অস্বাভাবিকতা চিহ্নিত করেন।

২. ইমেজিং টেস্ট: মেমোগ্রাম একটি মানক স্ক্রীনিং টুল হিসেবে ব্যবহার হয়। যদি কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, তবে আল্ট্রাসাউন্ড বা এমআরআই করা হয়।

৩. বায়োপসি: ইমেজিং টেস্টে ক্যান্সারের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে, টিস্যু নমুনা নিয়ে বায়োপসি করা হয় এবং ক্যান্সারের সঠিক নির্ণয় নিশ্চিত করা হয়।

কিভাবে ঝুঁকি কমানো যায়?

ব্রেস্ট ক্যান্সারের কিছু ঝুঁকি যেমন পারিবারিক ইতিহাস পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে কিছু স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার পছন্দ ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে:

১. শারীরিক কার্যকলাপ এবং সুষম খাদ্য: নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ এবং সুষম খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।

২. অ্যালকোহল কম খাওয়া: অ্যালকোহল কম খাওয়ার মাধ্যমে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

৩. মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানো: বিশেষ করে প্রাকৃতিক বয়সে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানো ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

৪. নিয়মিত স্ক্রীনিং: নিয়মিত স্ক্রীনিং ক্যান্সার দ্রুত সনাক্ত করতে সাহায্য করে, যা চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করে।

৫. জেনেটিক টেস্টিং: যারা ব্রেস্ট ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস রাখেন, তাদের উচিত জেনেটিক টেস্ট করানো যাতে BRCA1 এবং BRCA2 মিউটেশন সনাক্ত করা যায়, এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের জন্য সবাইকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্ক্রীনিং করানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google