পারমিতা রায়, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি (Siliguri) পুরনিগমের ৫১তম বোর্ড মিটিংয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হল। শুক্রবারের সভায় এক পর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে বিজেপির একাধিক কাউন্সিলর সভা বয়কট করে বেরিয়ে যান। পরে তাঁরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানান।
আন্ডারপাসের দাবির মোশন ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত
সূত্রের খবর, এদিন বাগড়াকোর্ট এলাকায় একটি আন্ডারপাস নির্মাণের দাবিতে মোশন আনেন বাম কাউন্সিলর শরদিন্দু চক্রবর্তী। অভিযোগ, মোশন পেশ করার সময় রাজ্য সরকারের ভূমিকার প্রসঙ্গ বা ধন্যবাদ জ্ঞাপনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
এরপর পুরনিগমের বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন বক্তব্য রাখতে উঠে রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান। সেই মন্তব্যের পরই আপত্তি তোলেন শরদিন্দু চক্রবর্তী।
‘অপ্রাসঙ্গিক ধন্যবাদ কেন?’ প্রশ্ন শরদিন্দুর
শরদিন্দু চক্রবর্তীর দাবি, যে বিষয় নিয়ে মোশন আনা হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে সরকারকে ধন্যবাদ জানানো অনভিপ্রেত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন বিনা কারণে সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে? এর মাধ্যমে কী প্রমাণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে?”
এই মন্তব্যের পর থেকেই সভাকক্ষে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে।
‘সেটিং’-এর অভিযোগ বিজেপির
অন্যদিকে বিজেপি কাউন্সিলরদের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিএম একযোগে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে চলেছে। তাঁদের দাবি, ধন্যবাদ জ্ঞাপন নিয়ে আলোচনার সময় “গট আপ” শব্দ ব্যবহার করা হলে সিপিএম কাউন্সিলররা তীব্র আপত্তি জানান। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিজেপির অভিযোগ, তাঁদের বক্তব্য বাধাগ্রস্ত করা হয়। এর প্রতিবাদে বিজেপির একাধিক কাউন্সিলর সভাকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং বোর্ড মিটিং বয়কট করেন।
রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা
বোর্ড মিটিংকে কেন্দ্র করে তৃণমূল, বিজেপি এবং বাম কাউন্সিলরদের এই প্রকাশ্য সংঘাত শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। পুরনিগমের ভিতরে বিরোধী দলগুলির পারস্পরিক অবস্থান এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে এই ঘটনার প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।
তবে এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ফলে বোর্ড মিটিংয়ের এই বিতর্ক আগামী দিনেও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে।




















