গোসাবায় অভাবের সুযোগ নিয়ে ধর্মান্তকরণের চেষ্টা মিশনারিদের! কড়া পদক্ষেপ হিন্দু জাগরণ মঞ্চের

গোসাবা: পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ ক্রমশ বেড়ে চলেছে (Conversion)। খ্রিস্টান মিশনারিরা দরিদ্র ও প্রান্তিক হিন্দু পরিবারগুলিকে লক্ষ্য করে তাদের ধর্ম পরিবর্তনে…

gosaba-alleged-conversion-bali-island-missionary-controversy

গোসাবা: পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ ক্রমশ বেড়ে চলেছে (Conversion)। খ্রিস্টান মিশনারিরা দরিদ্র ও প্রান্তিক হিন্দু পরিবারগুলিকে লক্ষ্য করে তাদের ধর্ম পরিবর্তনে উদ্যোগী হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠছে। আজ দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা ব্লকের বালি দ্বীপে একটি ধর্মান্তরকরণ কর্মসূচি হিন্দু জাগরণ মঞ্চের স্থানীয় কর্মীরা রুখে দিয়েছেন। ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

   

বালি দ্বীপ মূল ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরে। সুন্দরবনের এই প্রত্যন্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল। এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা হিন্দু এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে আছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন খ্রিস্টান মিশনারি গত কয়েকদিন ধরে দ্বীপে এসে দরিদ্র হিন্দু পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। তাঁরা চিকিৎসা সাহায্য, শিক্ষা ও আর্থিক সহায়তার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরকরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।

আরও দেখুনঃ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি থেকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা… ভারত-সিঙ্গাপুর সহযোগিতার ওপর আরও জোর

আজ যখন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, তখন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কর্মসূচিটি বন্ধ করে দেন।হিন্দু জাগরণ মঞ্চের অভিযোগ “এই দ্বীপের হিন্দুরা ইতিমধ্যেই অনেক সংকটের মধ্যে আছেন। জীবিকা নেই, প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই আছে। এই অবস্থায় মিশনারিরা এসে টাকা, খাবার ও চিকিৎসার লোভ দেখিয়ে ধর্ম বদলাতে বলছেন।

স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত দু’বছর ধরে এই এলাকায় মিশনারিদের তৎপরতা বেড়েছে। অনেক দরিদ্র পরিবার প্রথমে সাহায্য নিয়ে পরে ধর্ম পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তিক এলাকা বিশেষ করে সুন্দরবন, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও জলপাইগুড়ির দুর্গম অঞ্চলে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মিশনারিরা স্কুল, হাসপাতাল ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ধর্ম প্রচার চালাচ্ছেন বলে হিন্দু সংগঠনগুলি দাবি করছে।

অনেকে মনে করেন, এটা শুধু ধর্মান্তর নয়, সাংস্কৃতিক আগ্রাসনও।বালি দ্বীপের ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তবে হিন্দু সংগঠনগুলি দাবি করছে, শুধু ঘটনা রুখে দিলেই হবে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অবিলম্বে একটি কঠোর ধর্মান্তরকরণ বিরোধী আইন প্রণয়ন করতে হবে। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটকের মতো রাজ্য যেভাবে ‘লাভ জিহাদ’ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ আইন করেছে, বাংলাকেও সেই পথে যেতে হবে।